ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ বাস কাউন্টার উচ্ছেদে ডিএসসিসির অভিযান, ৩১টি সিলগালা
যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ বাস কাউন্টার উচ্ছেদ, ৩১টি সিলগালা

ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ বাস কাউন্টার উচ্ছেদে ডিএসসিসির অভিযান

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ এলাকায় অবৈধ বাস কাউন্টার উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গত ১৩ এপ্রিল সোমবার সকালে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে মোট ৩১টি অবৈধ কাউন্টার সিলগালা করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগ এই অভিযান পরিচালনায় সহায়তা প্রদান করে।

অভিযানের লক্ষ্য ও এলাকা

ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পূর্বঘোষিত নোটিশ অনুযায়ী টার্মিনালের বাইরে সড়কের পাশে অবস্থিত সব অবৈধ টিকিট কাউন্টার বন্ধ ও অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সায়েদাবাদের জনপথ মোড় এবং যাত্রাবাড়ীর মাওয়া রোডের মোড়ে অভিযান চালানো হয়। এই দুটি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বাস কাউন্টারের জন্য পরিচিত ছিল, যা পথচারী ও যানবাহনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছিল।

জনসাধারণের সুবিধা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা

ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে অবৈধ কাউন্টার অপসারণের মাধ্যমে যানজট কমাতে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও পরিচালনা করা হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা জানান, অবৈধ কাউন্টারগুলোর কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হতো। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার সময়ে এই সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করত। অভিযানের পর থেকে সড়কের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন। তবে কিছু বাস চালক ও কাউন্টার কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষও লক্ষ্য করা গেছে, যারা তাদের আয়ের উৎস হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যত পরিকল্পনা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদের পাশাপাশি বৈধ বাস টার্মিনাল ও কাউন্টার ব্যবস্থাপনায়ও নজর দেওয়া হবে। তারা চান যাত্রীদের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক বৈধ কাউন্টার স্থাপন করা হোক, যাতে অবৈধ কার্যকলাপের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এছাড়াও, সড়ক দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত টহল ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

এই অভিযান রাজধানীর যানবাহন ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা শহরের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।