ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি চাল বিতরণের অনিয়মের ভিডিও ফেসবুকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৯ মে) রাতে ও শনিবার দুই দফা সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আহতদের উদ্ধার ও হাসপাতালে ভর্তি
আহতদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে ভাঙ্গা ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।
আহতদের তালিকা
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ২৫ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন: আমেনা, হামিদা, পারভীন, অদুদ মোল্লা, আয়নাল মোল্লা, শাহ আলম মোল্লা, রুহুল মোল্লা, চান মোল্লা, শুকুর আলী মোল্লা, নুর আলম মোল্লা, মিজানুর মোল্লা, ইমদাদুল মোল্লা, সামাদ মোল্লা, রাজ্জাক মোল্লা, জোবায়ের মোল্লা, সামিউল মোল্লা, অ্যাডভোকেট জাকারিয়া মোল্লা, কাদের মাতুব্বর, কোহিনুর মোল্লা, ইউসুফ মাতুব্বর, জলিল মাতুব্বর, মাহবুব মোল্লা, ইবাদত মোল্লা ও রুবেল মোল্লা।
ঘটনার সূত্রপাত
জানা গেছে, চুমুরদী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আকরাম খান ঈদের চার দিন আগে চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি চাল বিতরণের অনিয়মের ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার সত্যতা না পেয়ে উভয় পক্ষকে সতর্ক করে ফিরে যান। বিষয়টি নিয়ে চুমুরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ ও তার পরিষদের সদস্যরা এবং ইউনিয়নের লোকজন ভালোভাবে নেয়নি।
সংঘর্ষের বিবরণ
ঈদের পরদিন শুক্রবার রাতে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আকরাম খানকে এলাকাবাসী মারধর করে। পরবর্তীতে আকরাম খানের পক্ষ নিয়ে শাহাবুদ্দিন মোল্লার লোকজন ও চেয়ারম্যানের লোকজনের মধ্যে রাতে কয়েক ঘণ্টা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এর জেরে শনিবার সকালে ঘণ্টাব্যাপী চুমুরদী ইউনিয়নের বাবনাতলা বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কে ফের দুই দল গ্রামবাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
পক্ষগুলোর বক্তব্য
চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহাগ মোল্লা বলেন, 'আমাদের বাবনাতলা গ্রামের টিকটকার আকরাম খান তথ্য না জেনে আমার বিরুদ্ধে একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করে অপপ্রচার চালিয়েছে, ফলে আমার সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আজকের সন্ধ্যায় আকরাম খানকে আমার ভাই চন্দন এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে উত্তেজিত হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তখন দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।'
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, 'তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনার জের ধরে আজ (শনিবার) সকালে আবারও দুই দল গ্রামবাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'



