স্থানীয় সরকারের দুর্নীতি তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন
স্থানীয় সরকারের দুর্নীতি তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি

স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোতে আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই প্রকল্প ফাইল পাসের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে অভিযোগের জবাবে নির্দিষ্ট ফাইল প্রকাশের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী

আজ শনিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এর আওতাধীন সংস্থাগুলোর দুর্নীতি ও অনিয়ম খতিয়ে দেখতে স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালককে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি প্রকল্পে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই ফাইল অনুমোদন করেছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আসিফ মাহমুদের জবাব

এ অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘কোনো ফাইল সচিবের স্বাক্ষর ছাড়া বা সচিবের টেবিল না হয়ে উপদেষ্টা কিংবা মন্ত্রীর টেবিলে আসারই কথা না, আসাই সম্ভব না।’

প্রতিমন্ত্রীকে নির্দিষ্ট ফাইল প্রকাশের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আপনি শেয়ার করেন কোন ফাইলে ইলিগ্যালি (বেআইনিভাবে) সচিবের অগোচরে উপদেষ্টা স্বাক্ষর করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের জানার অধিকার আছে যদি আসিফ মাহমুদ কোনো ফাইলে অনিয়ম করে থাকে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পিরোজপুর প্রকল্পের অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে পিরোজপুরের একটি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ‘পিরোজপুরে প্রকল্পের টেন্ডার দেওয়ার পর কোনো কাজ ছাড়াই ছয় হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।’ এ কারণে দুই বছর ধরে জেলার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বন্ধ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, পিরোজপুরের ওই দুর্নীতির ঘটনা তাঁর (আসিফ মাহমুদ) দায়িত্ব পালনের সময়ে মন্ত্রণালয়ই তদন্ত করে বের করেছিল এবং পরে দুদককে জানানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দুর্নীতিটা বের করেছিলাম এবং টাকার পরিমাণসহ দুদককে জানিয়েছিলাম।’

উন্মুক্ত আলোচনার প্রস্তাব

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে উন্মুক্ত আলোচনারও প্রস্তাব দিয়েছেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে থার্ড পার্টি টিভি চ্যানেলকে বলেন, আমরা ওই ফাইলটা নিয়ে টক শোতে বসি।’