সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি রুমিন ফারহানা, বিএনপির দ্বৈত নীতির সমালোচনা
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ সত্ত্বেও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এই শপথ নেননি। সরকারি দল বিএনপিও শপথ গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের প্রতিনিধি রুমিন ফারহানা তার সিদ্ধান্তের পেছনে আইনি দ্বন্দ্ব এবং বিএনপির ভূমিকা নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন।
জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানার বক্তব্য
সম্প্রতি আর জে কিবরিয়ার একটি শোতে অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, "যারা এই সংবিধান বাতিল করতে চাইতেন, তারা এটা ডে ওয়ানে করতে পারতেন। আপনারা পুরো বিষয়টিকে (জুলাই অভ্যুত্থান) বিপ্লব বলে একটা বিপ্লবী সরকার গঠন করে, তারপর সংবিধানটাকে হয় সাসপেন্ড করতেন, না হলে বলতেন এই সংবিধান আর থাকবে না। আমরা একটা নতুন সংবিধান লিখব।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি একদিন প্রশ্ন তুলেছিলেন এটি অভ্যুত্থান নাকি বিপ্লব। যদি এটি অভ্যুত্থান হয়, তাহলে সংবিধান এখনও কার্যকর রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদ বহাল আছে।
এই বক্তব্য তখন তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। রুমিন ফারহানা বলেন, "এটা নিয়ে সাংবিধানিক বিতর্ক হওয়া দরকার ছিল, কিন্তু সেটা হয়নি। সেটা না হয়ে আমার ঘাড়ের ওপর রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি হয়ে গেল।"
আইনি দ্বন্দ্ব ও শপথ না নেওয়ার কারণ
রুমিন ফারহানা তার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় বলেন, "আমি যেহেতু সংবিধান অনুযায়ী একটা শপথ নিয়েছি, সেটা অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়াটা সেই সংবিধানেই রয়েছে। তাই আমি গণপরিষদের শপথ সেই সংবিধান অনুযায়ী আর নিতে পারি না। এখানে একটা আইনি দ্বন্দ্ব হয়ে যায়।" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তার অবস্থান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও আইনজীবী হিসেবে তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের প্রতিফলন।
বিএনপির দ্বৈত নীতি নিয়ে সমালোচনা
রুমিন ফারহানা বিএনপির ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "এখন একটা প্রশ্ন হলো বিএনপি তাহলে কেন এই বিষয়টি অনেক আগেই পরিষ্কার করে নাই। তাহলে তো এটা বিএনপির তরফে একধরনের দ্বৈত দ্বিচারিতা, আর এক ধরনের প্রতারণা।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপি সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিয়ে দিনের পর দিন বৈঠক করেছে, প্রধানমন্ত্রীসহ হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে গেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, "বিএনপি দলগতভাবে তাদের সিদ্ধান্ত নেবে। আমি স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে বা আইনজীবী হিসেবে আমার মতো করে সিদ্ধান্ত নেব। জামায়াত তাদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের ব্যাপারে আলোচনা করল, গণভোট হলো, হ্যাঁ ভোটের পক্ষে গেল, তারপর তাদের সই না করার ব্যাখ্যাটা তাদেরকেই দিতে হবে।"
এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত করেছে, যেখানে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া এবং দলীয় অবস্থানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রুমিন ফারহানার বক্তব্যে আইনি নীতির পাশাপাশি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার দিকটি উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।



