বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেবে না, দলীয় সিদ্ধান্ত ঘোষণা
বিএনপি সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেবে না

বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেবে না: দলীয় ঘোষণা

বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবে না বলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে শপথ পড়ার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

শপথ না নেওয়ার কারণ

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। সংবিধানে এখনো এটাকে ধারণ করা হয়নি।" তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে। এছাড়া, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য কে, কে শপথ নেওয়াবেন, সেটার বিধান করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এ ফরমটি সংবিধানে নেই (নীল)। ফরমটি তৃতীয় তফশিলে আছে (সাদা)।" দলীয় চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংসদ সদস্যদের শপথ প্রক্রিয়া

সোমবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করা। সাংবিধানিকভাবে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার 'অ্যাভেইলেবল' না থাকলে বা অপারগ হলে বা তাদের মনোনীত প্রতিনিধি না থাকলে দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।

তিনি বলেন, "সে হিসেবে মঙ্গলবার (আজ) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ হবে। এটা সিইসির সাংবিধানিক এখতিয়ার আছে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রেক্ষাপট

গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হওয়ায় এখন জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা। সে হিসেবে নির্বাচিতরা প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং এরপর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল।

তবে সালাহউদ্দিন আহমদ জোর দিয়ে বলেন, "এর বাইরে...সংবিধান সংস্কার পরিষদ, এটা যদি কনস্টিটিউশনে (সংবিধান) ধারণ হয়, সেই মর্মে অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন) হয় এবং সেই শপথ পরিচালনার জন্য সংবিধানের তৃতীয় তফশিলে ফরম হয়, কে শপথ পাঠ করাবেন, সেটা নির্ধারিত হয়-এতগুলো হয়-এর পরে, তারপরে হলে হতে পারে।"

এভাবে বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেওয়ার বিষয়টি এখনো সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত হয়নি, তাই তারা এতে অংশ নেবে না।