টাঙ্গাইলের সখীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই কিশোরের মৃত্যু, শোকের মাতম
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই কিশোর সহপাঠী নিহত এবং তাদের আরেক বন্ধু গুরুতর আহত হয়েছেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় সখীপুর-গোড়াই সড়কের তক্তারচালা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে তিন বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তক্তারচালা বাজার এলাকায় যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মোজাম্মেল হোসেন (১৫) নিহত হন, আর ইয়ানুর রহমান (১৫) ও মাহির হাসান (১৬) গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। দুর্ভাগ্যবশত, ঢাকার উত্তরা এলাকায় নেওয়ার পর ইয়ানুর রহমানও মৃত্যুবরণ করেন। হাতীবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান খান তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
নিহত কিশোরদের পরিচয় ও শোকের পরিবেশ
নিহত মোজাম্মেল হোসেন উপজেলার হাতীবান্ধা উত্তরপাড়া এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে, আর ইয়ানুর রহমান হাতীবান্ধা ইউনিয়নের বালিয়াটা গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে। ইয়ানুরের মা শিউলী বেগম হাতীবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দুজনই রতনপুর খোশবাহার উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল, যারা একসাথে পড়াশোনা করত।
রোববার সকালে বালিয়াটা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ইয়ানুরের মা শিউলী বেগম বাড়ির উঠানে বিলাপ করছেন। স্বজন ও গ্রামবাসীরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু শোকের ছায়া পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। শিউলী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, ‘কয়েক মাস আগে আমার ছেলে মোটরসাইকেল কেনার জন্য বায়না ধরে। তুমি কেন বাবা মারা গেলা?’ এই মর্মস্পর্শী দৃশ্য উপস্থিত সকলের হৃদয় ভারাক্রান্ত করে তুলেছে।
দাফন ও পুলিশের তদন্ত
রোববার সকাল দশটার দিকে মোজাম্মেল ও ইয়ানুরকে নিজ নিজ গ্রামে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দুর্ঘটনায় জড়িত পিকআপ ভ্যানটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এই দুর্ঘটনা টাঙ্গাইল জেলার সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।



