পঞ্চগড়ে বাসের ধাক্কায় মা ও কন্যা নিহত, আহত আরও দুইজন
পঞ্চগড়ে বাসের ধাক্কায় মা-কন্যা নিহত, আহত দুই

পঞ্চগড়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: বাসের ধাক্কায় মা ও কন্যা নিহত

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও তার কন্যাসন্তান নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন পরিবারের আরও দুই সদস্য। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নতুন বন্দর আব্দুলপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়।

নিহত ও আহতদের পরিচয়

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন দেবীগঞ্জ পৌর সদরের পাটোয়ারী পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আজাদের স্ত্রী মমতা বেগম (৩৭) এবং তার সাত বছর বয়সী কন্যা মুনতাহা। পাশাপাশি, একই ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন মমতা বেগমের অপর কন্যা মুবাশ্বিরা এবং তার ভাগনে মনিরুল ইসলাম। আহতদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার বর্ণনা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেবীগঞ্জ থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল নাদের পরিবহনের একটি বাস। একই সময়ে, উপজেলার সোনাহার ইউনিয়নে বাবার বাড়ি থেকে ফিরছিলেন মমতা বেগম তার দুই মেয়ে নিয়ে। তারা ভাগনে মনিরুল ইসলামের চালিত মোটরসাইকেলে করে তাদের নিজ বাসায় ফিরছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন বন্দরের আব্দুলপুর এলাকায় পৌঁছানোর সময় ঢাকাগামী বাসটি হঠাৎ করেই মোটরসাইকেলটির উপর প্রচণ্ড ধাক্কা দেয়। এই ধাক্কার ফলে ঘটনাস্থলেই চারজনই মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

চিকিৎসকদের প্রতিক্রিয়া

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানের পর মমতা বেগম ও তার কন্যা মুনতাহাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে, আহত মুবাশ্বিরা ও মনিরুল ইসলাম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য ও ব্যবস্থা

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মনিরুজ্জামান ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, 'দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন বাসটি এবং এর চালককে আটক করে আমাদের হাতে সোপর্দ করেছেন। বাস ও সংশ্লিষ্ট চালককে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।'

এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারটির আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা গভীর মর্মবেদনা প্রকাশ করেছেন। পুলিশ প্রশাসন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছে।