যশোরের মণিরামপুরে বিদেশ ফেরত এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) সন্ধ্যায় স্বজনরা নিজ বসতঘর থেকে ফিরোজ হোসেন (৩৫) নামের ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করেন। দালালের প্রতারণা ও সৌদি আরবে আইনি জটিলতায় পড়ে মাত্র তিন মাসের মাথায় খালি হাতে দেশে ফিরে হতাশা থেকেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ফিরোজ হোসেনের পরিচয়
ফিরোজ হোসেন মণিরামপুর উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তার দুই মেয়ের পর সম্প্রতি তার স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান জন্ম দিয়েছেন। সন্তানদের নিয়ে তার স্ত্রী বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয়রা জানান, গত রোজার ঈদের আগে দেশে ফেরেন ফিরোজ। এরপর ভাড়ায় গাড়ি চালানো শুরু করলেও প্রতি মাসে তাকে কিস্তি বাবদ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছিল। রোববার বিকালে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা বন্ধ করে তিনি গলায় ফাঁস নেন। সন্ধ্যায় অনেক ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে স্বজনরা দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন।
আর্থিক সংকট ও হতাশা
স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবদল নেতা আইয়ুব আলী জানান, ফিরোজ আগে ভাড়ায় প্রাইভেটকার চালাতেন। পরে নিজের একটি গাড়ি কিনলেও বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে সেটি বিক্রি করে দেন এবং চড়া সুদে মোটা অঙ্কের ঋণ নেন। সৌদি আরবে পুলিশ তাকে আটক করে দেশে পাঠিয়ে দিলে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। আর্থিক চাপ ও হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মৃত্যু সন্দেহজনক, ময়নাতদন্তের নির্দেশ
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ আলেক উদ্দিন জানান, ওই যুবককে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। মণিরামপুর থানার এসআই ওবায়দুর রহমান জানান, নিহতের অণ্ডকোষে একটি ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে এবং সেখান থেকে রক্তপাত হচ্ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।



