সীমান্ত হত্যা বিতর্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন
সীমান্ত হত্যা বিতর্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন

সাধারণত দেশের বিভিন্ন সীমান্তে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে ‘সীমান্ত হত্যা’ বলা হয়। তবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীদের বক্তব্য

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, নাগরিকরা যখন এক দেশ থেকে আরেক দেশে যায় বা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করে, তখন যে হত্যাকাণ্ড ঘটে, সেটিই মূলত সীমান্ত হত্যা। একটি দেশের নিরস্ত্র নাগরিককে অপর দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী গুলি বা নির্যাতন করে হত্যা করলে সেটি সীমান্ত হত্যা হিসেবেই বিবেচিত হবে। হোক সেটা জিরো পয়েন্টে বা অন্য কোনো দেশের সীমান্তে— দিনশেষে এটি হত্যাকাণ্ড।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরে অপরাধে জড়িত থাকা বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় কোনো ব্যক্তি নিহত হলে সেটিকে ‘বর্ডার কিলিং’ বা সীমান্ত হত্যা বলা ঠিক হবে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, আপনারা যেটাকে বর্ডার কিলিং বলছেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানলে খুশি হব। যদি অন্য দেশের বাহিনী আমাদের সীমান্তে বা শূন্যরেখায় এসে কাউকে হত্যা করে, তবে সেটাকে আমরা বর্ডার কিলিং বা সীমান্ত হত্যা বলতে পারি। কিন্তু আমাদের সীমানার ভেতরে কিংবা তাদের সীমানার ভেতরে কেউ কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে বা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করলে, তারা তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী তা মোকাবিলা করবে। এটাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটনের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বলতে আমরা যা বুঝি তা হলো— নাগরিকরা যখন সীমান্ত অতিক্রম করে বা অতিক্রমের চেষ্টা করে, তখন নিরস্ত্র মানুষের ওপর হামলা বা গুলি ছুড়ে তাদের হত্যা করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে আমাদের দেশের নাগরিকদের ওপর ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা যেভাবে অত্যাচার করে বা গুলি চালিয়ে হত্যা করে, সেটিকে স্পষ্ট করার সুযোগ নেই। বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর অন্য দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আক্রমণ করে ও গুলি চালিয়ে হত্যা করে। এমন হত্যাকাণ্ডকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ, শুধুমাত্র ‘শূন্যরেখার’ অজুহাত দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডকে পাশ কাটানোর কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, দেশের সীমানার মধ্যে হোক, জিরো পয়েন্টে হোক বা ভারতীয় সীমান্তে হোক— এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবেই বিবেচিত হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সীমান্ত এলাকা বলতে কি শুধুমাত্র শূন্যরেখা এবং এর আশেপাশের জায়গাকেই বোঝায়?

এনসিপি নেতার বক্তব্য

এদিকে, আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুরে যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ‘পুশইন’ চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের লাগাতার হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি। এ সময় তিনি সীমান্ত হত্যার প্রতিটি ঘটনার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বিজিবি কর্মকর্তার বক্তব্য

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম বলেন, 'সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বলতে মূলত সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত ঘটনাকে বোঝায়। কিন্তু অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় কেউ নিহত হলে সেটাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক্ষেত্রে যথার্থই বলেছেন।'