বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে, বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে এবং শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল করবে বলে মনে করছেন ইস্পাত খাতের শিল্পমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) নেতারা। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, বিদ্যুতের মূল্যকাঠামো এখন শুধু ট্যারিফ ইস্যু নয়, এটি শিল্প টিকে থাকার মৌলিক প্রশ্ন। শিল্পকে অতিরিক্ত চাপ দিয়ে অর্থনীতি টেকসই করা সম্ভব নয়। শিল্প দুর্বল হলে অর্থনীতি শক্তিশালী হয় না। এটাই বর্তমান বাস্তবতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
এমন প্রেক্ষাপটে দেশের স্টিল ও রি-রোলিং শিল্প বাঁচানোর স্বার্থে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে বিএসএমএ। ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তাদের পক্ষে আজ বুধবার বিএসএমএর সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। এতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পক্ষ থেকে বিদ্যুতের মূল্য গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন মাশুল ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
শিল্প খাতের বর্তমান অবস্থা
বিএসএমএ দাবি করেছে, গণশুনানিতে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে দেখানো হয়েছে, দেশের শিল্প খাত বর্তমানে অতিরিক্ত ব্যয় বহনের সক্ষমতা রাখে না। করোনা–পরবর্তী সময় থেকে শিল্প খাত এক দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মধ্যে রয়েছে। উচ্চ সুদহার, টাকার অবমূল্যায়ন, চলতি মূলধনের অভাব, গ্যাস ও বিদ্যুতের ব্যয় বৃদ্ধি, নির্মাণ খাতের মন্দা, কয়েক বছর ধরে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে শিল্পের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। অনেকে এখন লাভ নয়; বরং লোকসানে চলছে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব
গত কয়েক বছরে বিদ্যুতের মূল্য প্রায় ৩৬ শতাংশ, ডিমান্ড মাশুল ১২৫ শতাংশ এবং গ্যাসের মূল্য কিছু ক্ষেত্রে ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। আজ এক্সট্রা হাই টেনশন বা ইএইচটি-১ গ্রাহকের ক্ষেত্রে অফ-পিক মূল্য ৯ দশমিক ৬১ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৩৯ টাকা এবং পিক টাইমের মূল্য ১৩ দশমিক ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ১৫ দশমিক ৮২ টাকা করা হয়েছে। ফলে শিল্প খাতে বিদ্যুতের মোট ব্যয়কাঠামো বহুগুণ বেড়েছে।
স্টিল শিল্পের বিশেষ সমস্যা
বিএসএমএ বলেছে, ‘স্টিল শিল্পের বড় কারখানাগুলো ৩৩ কেভি, ১৩২ কেভি এবং ২৩০ কেভি এক্সট্রা হাই টেনশন (ইএইচটি) লাইনের সরাসরি গ্রাহক। আমরা নিজস্ব সাবস্টেশন বিনিয়োগ করেছি। কার্যত কোনো সিস্টেম বা ট্রান্সমিশন লস নেই। তবু ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট, পাওয়ার ফ্যাক্টর চার্জসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত চার্জে প্রকৃত বিদ্যুৎ খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শিল্প উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়াবে। দেশের শিল্প খাতের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন হ্রাস পেলে সরকারের রাজস্ব আয়ও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে।’
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলেও বিদ্যুতের মূল্যকাঠামোতে তার প্রতিফলন নেই, যা একমুখী মূল্যনীতি নির্দেশ করে—এমনটাই বলেছে বিএসএমএ।



