যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ অন্তত ১৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আন্তর্জাতিক নিয়ম উপেক্ষা করে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে তাদের পুশইনের চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।
ঘটনার বিবরণ
রোববার (৩১ মে) গভীর রাতে শার্শা উপজেলার সাদিপুর গ্রামের খড়ের মাঠ এলাকায় সীমান্ত পিলার ১৯/এস-৬–এর কাছে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ব্যক্তিরা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। বিজিবি সূত্র জানায়, ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জয়ন্তীপুর সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের গেট খুলে বিএসএফ সদস্যরা কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তরের সাদিপুর সীমান্ত এলাকায় জড়ো করা হয়।
বিজিবির প্রতিক্রিয়া
আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে থাকা বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে। যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল রাতে বিএসএফ অন্তত ১৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করেছে। আমরা তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দিইনি।’ তিনি জানান, রাতভর সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার রাখা হয় এবং জেলার সব সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিএসএফকে বার্তা
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিএসএফকে জানিয়েছি, তারা যদি বাংলাদেশের নাগরিক হন, তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাঠালে আমরা গ্রহণ করব। কিন্তু অবৈধভাবে ঠেলে দিলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা কোনোভাবেই জিরো লাইন অতিক্রম করতে দেব না।’
পতাকা বৈঠক
এ ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় সাদিপুর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের উপ-অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও সীমান্ত-সমন্বয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।



