রাঙামাটিতে নবগঠিত কমিটিকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রোববার ও সোমবার দফায় দফায় সংঘর্ষের পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
সংঘর্ষের পটভূমি
শনিবার (২ মে) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির স্বাক্ষরে মো. অলি আহাদকে সভাপতি, নাঈমুল ইসলাম রনিকে সাধারণ সম্পাদক ও গালিব হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২৩ সদস্যের একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এরপর রোববার (৩ মে) পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা ওই কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে জেলা বিএনপি অফিসের সামনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে তারা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নেয়। কিন্তু সোমবার বিকেল ৩টার দিকে দাবির ব্যাপারে কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় তারা আবার লাঠিসোটা নিয়ে জেলা বিএনপি অফিসের সামনে অবরোধ সৃষ্টি করে কঠোর অবস্থান নেয়।
প্রত্যক্ষ সংঘর্ষ
এ সময় নবগঠিত কমিটির সভাপতি অলি আহাদ ও সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম রনির নেতৃত্বাধীন গ্রুপের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে অবরোধকারীদের তুলে দিতে হামলা চালায়। এতে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪-৫ জন গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে দুইজনের নাম পাওয়া গেছে—মো. নাহিদ ও ইউনুস।
এ সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে উভয় গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। একপক্ষে নবগঠিত কমিটির সভাপতি অলি আহাদ ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম রনি এবং অন্যপক্ষে পদবঞ্চিতদের জাবেদ, ফজলু ও সুমন সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেন বলে জানা যায়। পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শহরের জেলা বিএনপি অফিসের আশপাশের কাঠালতলী, বনরুপা ও পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ টহল দিচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোছাইন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
দুই পক্ষের বক্তব্য
নবগঠিত কমিটির সভাপতি অলি আহাদ ও সম্পাদক মো. নাঈমুল ইসলাম রনি বলেন, জেলা ছাত্রদলে কোনো গ্রুপিং নেই। এটি শুধু আংশিক কমিটি, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যারা আন্দোলনের নামে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে, তা ঠিক নয়। তাদের প্রতিশ্রুতি, জেলা ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে কোনো বিভেদ বা সমস্যা হবে না।
অপরদিকে পদবঞ্চিত নেতাকর্মী জাবেদ, ফজলু ও সুমন বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির একপেশে জেলা ছাত্রদল কমিটি তারা মেনে নেবেন না। তাদের মতে, এই কমিটি অনুমোদন দিতে অবৈধ লেনদেনের তথ্য রয়েছে। তাই ঘোষিত কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি না করা হলে তারা কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবেন।



