মাজারে সংঘটিত হামলা-হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবিতে ছাত্র ফেডারেশনের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আজ সোমবার বিকেলে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
হামলার ঘটনায় জামায়াত আমিরের ক্ষমা প্রার্থনার দাবি
ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ বলেন, রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলীর মাজারে জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের কাছেও এ হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ
সৈকত আরিফ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মৌন সমর্থনে জুলাই–পরবর্তী সময়ে দেশব্যাপী অসংখ্য দঙ্গলবাজির ঘটনা ঘটেছে। সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী ও ভিন্নমতের মানুষের ওপর হামলা, এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটেছে। তিনি প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানটে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন।
ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ পুরো সরকার দঙ্গল দমনে ব্যর্থ হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দঙ্গলবাজি না ঘটানোর আশ্বাস দিলেও এখন দেখা যাচ্ছে, সরকারও ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
তদন্ত ও বিচারের দাবি
সৈকত আরিফ বলেন, অবিলম্বে মিরপুরের শাহ আলীর মাজারে হামলাকারীদের বিচার করতে হবে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রতিটি দঙ্গলবাজির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়। তিনি জানান, পুলিশ ও মাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শাহ আলী মাজারে জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে।
সমাবেশে ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরমানুল হকের সঞ্চালনায় সংগঠনের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সজীব হোসেন, ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক আল-আমিন রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাইদুর রহমান, সুরেশ্বরী দরবার শরিফের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান ও সংগঠক মাহাথির মোহাম্মদ বক্তব্য দেন।
বিক্ষোভ মিছিল
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়। মিছিলে ‘দঙ্গলবাজদের আস্তানা, বাংলাদেশে হবে না’, ‘মাজারে হামলা করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করে?’, ‘প্রথম আলোয় হামলার, বিচার করো করতে হবে’, ‘ডেইলি স্টারে হামলার, বিচার করো করতে হবে’, ‘ছায়ানটে হামলার, বিচার করো করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়।



