কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, সাম্প্রদায়িকতা একটি ‘ছোঁয়াচে রোগের’ মতো, যা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ বাড়লে তার প্রভাব ভারতেও পড়বে।
সাক্ষাতকারে ফজলুর রহমান
সম্প্রতি যুগান্তরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতাটা একটা রোগ, করোনার মতো। এটার কাছে যাওয়া যায় না, এটা ছোঁয়াচে রোগ। এই সাম্প্রদায়িকতা যখন, যেখানেই শুরু হইছে ওখান থেকে ছড়িয়ে গেছে।’
ফজলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ হয় ভারতেও হবে। ওরা এরকম করে আমরা কি ছেড়ে দেব নাকি? জিনিসটা এরকম হয়ে গেছে।’
দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে তিনি সভ্য রাষ্ট্র হিসেবে মনে করেন। তবে এই অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক শক্তির কারণেই অস্থিরতা বাড়ছে।
তিনি বলেন, ‘শ্রীলংকায় আন্দোলনের পরে এখন সুন্দরভাবে আবার দাঁড়িয়ে গেছে। আজকে ১৮ বছর যাবৎ নেপালে গণতন্ত্র নিয়ে অস্থিরতা চলছে, কিন্তু অর্থনীতি নিয়ে কোনো অস্থিরতা নাই। গণতন্ত্র নিয়ে আন্দোলনের পরে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে, সরকার চালাচ্ছে। ভুটানও সুন্দরভাবে চলছে। কিন্তু গণ্ডগোলের মধ্যে শুধু আছি আমরা। আর আমরা শুধু আছি ভারত নিয়া, আর ভারত আছে আমাদের নিয়ে।’
এ পরিস্থিতির জন্য সব জায়গাতেই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দায়ী করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘শুধু ভারত পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িকতা করতেছে, আমরা খুব ভালো মানুষ—এটা বলার কোনো অর্থ নেই।’
বিএনপির সংসদ সদস্যের বক্তব্য
বিএনপির এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘এখানে যা হচ্ছে, জঙ্গিবাদ-সাম্প্রদায়িকতা কল্পনার বাইরে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের দেশে তো এরকম হওয়ার কথা ছিল না। আমাদের ব্যর্থতা আছে।’
ভারতবিরোধী মনোভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এইটা ৭২ সাল থেকে শুরু হইছে। ভারতবিরোধিতাটা অনেক গোপনে আস্তে আস্তে, পরে সোচ্চার অবস্থায় শুরু হইছে—ভারত আমাদের সব নিয়ে গেল। আমি জানি না কতটুকু নিয়েছে।’



