চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে ১০টি মসজিদের উন্নয়নে সরকার ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে আটটি মসজিদ গোমস্তাপুর উপজেলায়, যা সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমানের নিজ উপজেলা। বাকি দুটি মসজিদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায়, একটি করে। নাচোলে বরাদ্দকৃত মসজিদটি পৌর জামায়াতের আমির মুনিরুল ইসলামের নিজ গ্রামে।
বৈষম্যের অভিযোগ
বিষয়টি নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় লোকজন। তারা বলছেন, এমপি নিজ এলাকায় একসঙ্গে আটটি মসজিদের বরাদ্দ নিয়ে অন্য দুই উপজেলার মানুষের প্রতি বৈষম্য করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘সমতার ভিত্তিতে যদি এই বরাদ্দ বণ্টন করা হতো, তবে দুই উপজেলার (নাচোল ও ভোলাহাট) দুটি পৌরসভার জন্য দুটি এবং প্রতি দুটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে মসজিদ বরাদ্দ পাওয়ার কথা। সেই হিসাবে নাচোল উপজেলা তিনটি, ভোলাহাট তিনটি এবং গোমস্তাপুর উপজেলা চারটি মসজিদ পাওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি। এখানে এমপি বৈষম্য করেছেন।’
বরাদ্দের তালিকা
সরকারের সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার ১০টি মসজিদের জন্য মোট ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তালিকায় সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের নিজ এলাকা রহনপুর পৌরসভার পুরাতন প্রসাদপুর দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ, রহনপুর রেলস্টেশন বাজার শাহী জামে মসজিদ ও নুনগোলা জামে মসজিদ রয়েছে। এছাড়াও গোমস্তাপুর উপজেলার সন্তোষপুর জামে মসজিদ, দাঁড়াবাজ গাবতলা জামে মসজিদ, দিঘা বাজার জামে মসজিদ, পলাশডাঙ্গা জামে মসজিদ ও কাশিয়া বাড়ি পূর্বপাড়া জামে মসজিদ রয়েছে তালিকায়। বাকি দুই উপজেলায় একটি করে মসজিদ বরাদ্দ পেয়েছে: নাচোল পৌরসভার মুরাদপুর পশ্চিমপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ এবং ভোলাহাট উপজেলার দলদলি ইউনিয়নের মধ্য খড়কপুর জামে মসজিদ।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
নাচোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মাজিদুল ইসলাম বলেন, ‘নাচোলে যে মসজিদ উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটি জামায়াতের পৌর আমিরের এলাকায়। এটা মোটেও ঠিক হয়নি।’ ভোলাহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইয়াজদানি জর্জ বলেন, ‘অবশ্যই বৈষম্য করা হয়েছে। প্রত্যেকটি উপজেলায় আনুপাতিক হারে বরাদ্দ দেওয়া উচিত ছিল।’
জামায়াত নেতাদের স্বীকারোক্তি
সমালোচনার মুখে বিষয়টি নিয়ে ভুল স্বীকার করেছেন স্থানীয় জামায়াতের নেতারা। নাচোল উপজেলা জামায়াতের আমির ইয়াকুব আলী বলেন, ‘এর আগে যত বরাদ্দ হয়েছে, সেগুলো সমতার ভিত্তিতে করা হয়েছে। এবার একটু ভুল হয়েছে। এমপির সঙ্গে কথা হয়েছে আমাদের, পরবর্তী বরাদ্দে সমন্বয় করা হবে।’
এমপির বক্তব্য
সংসদ সদস্য ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি শুরুতে আমার জানা ছিল না। তাৎক্ষণিকভাবে একটি তালিকা চাওয়া হয়েছিল। সেটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরে দেখেছি আমার নির্বাচনি এলাকায় ১০টি মসজিদ উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমার ফাইলে যেসব আবেদন ছিল সেখান থেকেই তালিকা করা হয়েছে। পরবর্তীতে দেখা গেছে, গোমস্তাপুর উপজেলায় সংখ্যাটা বেশি। বিষয়টি মাথায় রেখে পরবর্তী বরাদ্দে উপজেলাভিত্তিক সমতা নিশ্চিত করা হবে।’



