আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) ট্রাস্টি বোর্ডে পরিবর্তন আসছে। বাংলাদেশ সরকার বোর্ডে নতুন চারজন সদস্যকে মনোনয়ন দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই মনোনয়নের মধ্য দিয়ে সরকার আইসিডিডিআরবির ব্যবস্থাপনায়ও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
বার্ষিক সভা ও বোর্ডের বর্তমান কাঠামো
১০ থেকে ১২ জুলাই আইসিডিডিআরবির ট্রাস্টি বোর্ডের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ এক বছরের কাজের পর্যালোচনা হয়। আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী, গবেষক ও কর্মকর্তা–কর্মচারীরা এই সভাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন।
আইসিডিডিআরবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সংখ্যা ১৫ জন। এর মধ্যে চারজন সদস্য মনোনয়ন দেয় বাংলাদেশ সরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ একজন করে সদস্য মনোনয়ন দেয়। আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক বোর্ড সদস্য এবং তিনি বোর্ডের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। বাকি আটজন বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানী বা গবেষক। বর্তমান বোর্ডের সভাপতি নেনসি ওয়াই চ্যেং। কানাডার এই নাগরিক একজন নিরীক্ষা বিশেষজ্ঞ। বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যাপক তাহমিদ আহমেদ।
সরকার মনোনীত নতুন সদস্যবৃন্দ
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতি সম্পর্ক বিভাগের সচিবকে বরাবর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। সেই হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী ও অর্থনীতি সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার সিদ্দিকী পদাধিকারবলে বোর্ড সদস্য।
সরকার এবার স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতকে বোর্ড সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। বাকি সদস্য জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিশেষজ্ঞ গোলাম মহিউদ্দীন খান সাদি। আজ বৃহস্পতিবার সরকারের পক্ষ থেকে এই চারজনকে মনোয়নয়ন দেওয়া হয়।
ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য পরিবর্তন ও প্রতিক্রিয়া
আইসিডিডিআরবির ভেতরের এবং আইসিডিডিআরবি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখে এমন সূত্রগুলো বলছে, সরকার আইসিডিডিআরবির ব্যবস্থাপনার উচ্চ পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে চায়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে আইসিডিডিআরবির উচ্চ পর্যায়ের কারও কারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিএনপি–সমর্থক বিজ্ঞানী বা গবেষকেরা সেই সময় নাজেহাল হয়েছেন, এমন অভিযোগ আছে।
বোর্ডের পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক তাহমিদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই খুশি। আমরা বোর্ডে একজন প্রতিমন্ত্রীকে পেয়েছি। এটা অনেক বড় ব্যাপার। তিনি একজন স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ। ওনার সাহায্য নিয়ে আমরা অনেক কিছুই করতে পারব।’



