প্রধানমন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগ: শাহবাগের ফুটপাতবাসী গোলাপি বেগম পাচ্ছেন নতুন আবাস
রাজধানীর শাহবাগের ফুটপাতে বসবাসকারী অসহায় গোলাপি বেগমের জীবনযাত্রায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে তার জন্য নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) বিকালে এই নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
কীভাবে শুরু হলো এই উদ্যোগ?
২০২৫ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একটি সমাবেশে গোলাপি বেগমের দুর্দশা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সেই সমাবেশে ফুটপাতে বসবাসরত এই অসহায় নারীর কষ্টকর জীবনযাপন প্রধানমন্ত্রীকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। মানবিক বিবেচনায় তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন এবং তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এরপর গোলাপি বেগমের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রায় আট মাস ধরে তাকে ঢাকায় একটি বাসায় থাকার ব্যবস্থা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান ও 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গোলাপি বেগমের স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে একটি নতুন বাড়ি নির্মাণের নির্দেশনা দেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানের বিস্তারিত
'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর উপদেষ্টা ও নরসিংদী জেলার রায়পুরা আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলের নেতৃত্বে এবং সংগঠনের সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের উপস্থিতিতে একটি প্রতিনিধিদল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শুক্রবার বিকালে এক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন:
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান
- 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মোস্তাকিম বিল্লাহ ও শাকিল আহমদ
- বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ
- ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসানুর রহমান
- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা মশিউর রহমান মহান
- ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মিসবাহ
- স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মী
নেতাদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা বলেন, সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংগঠনটি মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহতভাবে পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
নেতারা আরও উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র একটি বাড়ি নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ। গোলাপি বেগমের জীবনমান উন্নয়নে চিকিৎসা, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
এই মানবিক উদ্যোগটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই রাষ্ট্রনায়কের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এই ধরনের উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গোলাপি বেগমের কাহিনী শাহবাগের ফুটপাতে বসবাসকারী অসংখ্য মানুষের জীবনসংগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ শুধুমাত্র একজন মানুষের জীবনই বদলাচ্ছে না, বরং এটি সমগ্র সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার নতুন বার্তা বহন করে আনছে।
নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে স্থানীয় জনগণও উৎসাহের সঙ্গে এই প্রকল্পে সহযোগিতা করছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই উদ্যোগটি অন্যান্য অসহায় মানুষের জন্যও আশার আলো হয়ে দেখা দিতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও অনেকের জন্য এমন পুনর্বাসন প্রকল্প গ্রহণের দাবিও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।



