বোর্ড পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে চায় সরকার: পুনর্মূল্যায়ন ও ফেলের সুযোগ সীমিত
বোর্ড পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন: পুনর্মূল্যায়ন ও ফেলের সুযোগ

বোর্ড পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে চায় সরকার

বাংলাদেশ সরকার পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা ভাবছে, যা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এই পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের বর্তমান পদ্ধতি বদলে পুনর্মূল্যায়ন চালু করা এবং কোনো বিষয়ে ফেল করলে সর্বোচ্চ কতবার পরীক্ষা দেওয়া যাবে, সেই নিয়মে সংশোধন আনা।

পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হতে পারে

বর্তমানে পুনঃনিরীক্ষণ বলতে মূলত খাতার নম্বর গণনায় ভুল, কোনো প্রশ্নে নম্বর না দেওয়া বা কভার পৃষ্ঠায় নম্বর তোলার ভুল সংশোধন বোঝায়। তবে এতে পরীক্ষকের দেওয়া নম্বর পরিবর্তন করা যায় না। কিন্তু প্রস্তাবিত পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতিতে খাতা নতুন করে দেখা হবে, ফলে নম্বর কমতেও পারে, বাড়তেও পারে বা একই থাকতে পারে।

এ প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন শিক্ষকরা। তাদের মতে, পুনর্মূল্যায়ন চালু হলে দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং অনেক শিক্ষার্থী খাতা পুনরায় দেখার জন্য আবেদন করবে, যা অস্বচ্ছতা তৈরি করতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফেল করলে সর্বোচ্চ দুইবার পরীক্ষার সুযোগ

আরেকটি প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে ফেল করলে সর্বোচ্চ দুইবার পুনরায় পরীক্ষা দিতে পারবে। বর্তমানে এই সুযোগ বেশি বার রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রেও শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের আরও সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে তারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতি রোধে আইন সংশোধন

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষার হলে প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি ঠেকাতে বিদ্যমান আইনেও সংশোধন আনা হবে। এ জন্য আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা এবং ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষাসংক্রান্ত আইন হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এছাড়া, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস বা সংঘবদ্ধ জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ১৯৮০ সালের আইনে নতুন বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখনো এসব পরিবর্তন চূড়ান্ত হয়নি; খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং আইন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে কাজ করছে।

এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সরকারের লক্ষ্য হল পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করা, তবে শিক্ষকদের আশঙ্কা রয়েছে যে এটি নতুন সমস্যার জন্ম দিতে পারে।