প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় বক্তব্য: স্বৈরাচার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা আমদানি হয়নি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে দাবি করেছেন, স্বৈরাচারের সময় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিশুদের জন্য হামের টিকা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিন বুধবার (২২ এপ্রিল) সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্যের প্রশ্ন ও প্রধানমন্ত্রীর জবাব
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, চট্টগ্রামে দেশের একমাত্র সংক্রামক রোগের চিকিৎসা কেন্দ্র বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটসহ অধিকাংশ হাম শনাক্তকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এই কারণে হাম শনাক্ত করতে সব ইনস্টিটিউট এবং চিকিৎসা কেন্দ্রকে ঢাকার পাবলিক হেলথ কেন্দ্র ন্যাশনাল পলিউট অ্যান্ড রুবেলা ল্যাবরেটরিতে নমুনা পাঠাতে হচ্ছে। টিকা যথার্থ হওয়ার পরও রোগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই ব্যবস্থা উত্তরণে দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা তা জানতে চান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জবাবে বলেন, "সংসদ সদস্য আপনি যে প্রশ্নটি করেছেন, আসলে এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। এই সংসদে আজ আমরা যারা উপস্থিত আছি, সবাই মিলে একটি স্বৈরাচারকে এই দেশ থেকে বিতাড়িত করেছি। সেই স্বৈরাচারের সময় এবং আমরা যে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়েছিলাম, সেই সরকারের সময় শিশুদের হামের টিকা গত কয়েক বছর ধরে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি।"
ইউনিসেফের সহায়তা ও সরকারের পদক্ষেপ
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, স্বাভাবিকভাবেই যখন সমস্যাটি দেখা দেয়, তখন ইউনিসেফ গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছে। এই বিষয়ে দ্রুত তারা হামের ভ্যাক্সিনেশন পাঠিয়েছে। যার ফলে প্রায় দুই কোটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, হাম টেস্ট করার কিটের স্বল্পতা রয়েছে। সরকার এই বিষয়ে কাজ করছে এবং অনেক কিট ইতিমধ্যে এসে পৌঁছেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "খুব সম্ভবত একটি কিট দিয়ে তিনটি শিশুকে টেস্ট করা সম্ভব হয়, তিনটি টেস্ট করা যায়। কিছু কিট এই মুহূর্তে খুব সম্ভবত ঢাকার কাস্টমসে আছে, এয়ারপোর্টে আছে, সেগুলো আমরা দ্রুত ছাড়ানোর ব্যবস্থা করছি।"
দুঃখজনক পরিণতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, অনেক শিশুর প্রাণ ঝরে গেছে এই সংকটে। তবে সরকার সামনে এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য চেষ্টা করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, সরকার এই সিচুয়েশন ম্যানেজ করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এমন সংকট প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই বিতর্কটি সংসদ অধিবেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হিসেবে উঠে এসেছে, যা স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার পূরণ করে।



