ঈদের আগের দিন সদরঘাটে যাত্রীচাপ কম, ফাঁকা টার্মিনাল
ঈদের আগের দিন সদরঘাটে যাত্রীচাপ কম, ফাঁকা টার্মিনাল

আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের আগে সাধারণত যাত্রী ও ভিড়ের চাপে সরগরম থাকে ঢাকার সদরঘাট। অথচ ঈদের ঠিক আগের দিন রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নেই সেই চিরচেনা যাত্রীচাপের দৃশ্য। পন্টুনজুড়ে যেখানে সাধারণত উপচে পড়ে মানুষের ভিড়, বুধবার বিকেলে সেখানে ছিল অস্বাভাবিক ফাঁকা ও নীরব পরিবেশ। ভিড়ের বদলে দেখা গেছে স্বস্তির আবহ—যেন উৎসবের আগমুহূর্তেও কিছুটা প্রশান্তির ছোঁয়া।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে। ঈদের আগের দিন সাধারণত যাত্রীচাপে মুখর থাকে টার্মিনালটি, তবে এবার ছিল অনেকটাই ফাঁকা ও স্বাভাবিক পরিবেশ।

বিআইডব্লিউটিএ, লঞ্চ কর্তৃপক্ষ এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার আগেভাগেই অধিকাংশ মানুষ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে যাত্রীর চাপ তুলনামূলকভাবে কমেছে। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকে নৌপথের পরিবর্তে সড়কপথ বেছে নিয়েছেন। ফলে সদরঘাটে আসা অনেক যাত্রীই এমন ফাঁকা টার্মিনাল দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। কেউ কেউ জানান, সাধারণ ঈদের আগের দিনের সঙ্গে এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিআইডব্লিউটিএর বোর্ডিং সারেং নুরুজ্জামান সুমন বলেন, “সাধারণত ঈদের আগের দিন যাত্রীর চাপ কমে যায়, কারণ মানুষ ছুটি পেলে আগে আগেই বাড়ি চলে যায়। সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালত কয়েকদিন আগেই ছুটি হওয়ায় এবারও বেশিরভাগ মানুষ আগেভাগেই ঢাকা ছেড়েছেন। এখন যারা যাচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই জরুরি কারণে আগে যেতে পারেননি।”

তিনি আরও জানান, বুধবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৯টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে সদরঘাট ছেড়ে গেছে। এছাড়া রাত ১০টা পর্যন্ত আরও ৩৬টি লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এমভি মানিক-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. রিপন ঘরামী বলেন, আবহাওয়া ভালো না থাকায় অনেক যাত্রী ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে লঞ্চে ভ্রমণ করতে চাচ্ছেন না। তাই অনেকে সড়কপথে বাড়ি যাচ্ছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এমভি সম্রাট-৭ লঞ্চের এক কর্মকর্তা বলেন, “লোক কিছু হবে। তবে এই সময় সাধারণত যাত্রী একটু কমই থাকে। যারা যাওয়ার তারা আগেই চলে গেছে।”

বরগুনাগামী যাত্রী শিউলি বেগম সদরঘাটে এসে যাত্রী কম দেখে অবাক হয়ে বলেন, “সব ফাঁকা। এবার স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবো।” ভোলাগামী যাত্রী মোহন মিয়া বলেন, ব্যক্তিগত কাজ থাকায় আজ বাড়ি যাচ্ছি। আসতে কোনও সমস্যা হয়নি। রাস্তাঘাট ফাঁকা, লঞ্চেও তেমন ভিড় নেই।

তবে বেতুয়া, হাতিয়া ও মনপুরা রুটে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এসব রুটের যাত্রী থাকলেও ঘাটে নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ না থাকায় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। মনপুরাগামী যাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, “দুই বছর পর বাড়িতে যাচ্ছি। গাজীপুর থেকে সকাল ১১টায় এসেছি লঞ্চঘাটে। গতকাল গার্মেন্টস ছুটি হয়েছে। বাচ্চাদের নিয়ে রাতে না বের হয়ে তাই সকালে রওনা হয়েছি। কিন্তু ঘাটে কোনও লঞ্চ নেই। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি লঞ্চ আসছে।”