বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল রিটার্নিং অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন, যাতে তিনি দাবি করেন যে নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।
অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ
প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল তার অভিযোগে স্পষ্টভাবে ১৪ জন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেছেন, যাদের মধ্যে ব্যাংক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত।
- জনতা ব্যাংক জাতীয়তাবাদী অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সভাপতি নিয়াজ মো. নাসিরসহ জনতা, অগ্রণী, সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের মোট ১০ জন কর্মকর্তা।
- সরকারি আজিজুল হক কলেজের তিনজন শিক্ষক, যাদের নামও অভিযোগপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোহেল তার অভিযোগে জোর দিয়ে বলেন, "দলীয় মতাদর্শের ব্যক্তিদের নির্বাচনি দায়িত্বে রাখা হলে ভোটের নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।" তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এর ফলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়তে পারে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য একটি বড় হুমকি।
পূর্ববর্তী নির্বাচনের প্রসঙ্গ
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও একই রকম পদ্ধতিতে দলীয় ব্যক্তিদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই পুনরাবৃত্তি ঘটনা নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রার্থী সোহেল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে বর্তমান নিয়োগগুলো বাতিল করে নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রদানের জোরালো অনুরোধ জানিয়েছেন।
নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ফজলুল করিম এই অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, "জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা অবশ্যই গ্রহণ করা হবে।"
এই ঘটনা বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের আগে একটি বড় রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ এই সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



