বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দাবি
বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের অভিযোগ

বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র অভিযোগ বিনিময়

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রভাব বিস্তার এবং সহিংসতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এই উপনির্বাচনে ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমানের তীব্র অভিযোগ

গতকাল শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের নওয়াববাড়ী সড়কের শহর জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন দলের প্রার্থী আবিদুর রহমান। তিনি বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন, জামায়াতের নেতা-কর্মীদের প্রচারণায় বাধা, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ করেন। আবিদুর রহমান দাবি করেন, ‘নির্বাচনের দিন পর্যন্ত আইন হাতে তুলে নিব না। তবে যদি দেখি, প্রতিপক্ষ ভোট ডাকাতি করছে, তখন ডাকাত মোকাবিলা করা আইনবিরোধী নয়। তখন কী পদক্ষেপ নেব, তা আমরা তাৎক্ষণিক নেব।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের এক কর্মীর বাড়িতে গিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। ফাঁপোড় ইউনিয়ন ও বগুড়া পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় বাধা ও কর্মীদের ভয়ভীতি দেওয়া হয়েছে। শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির লোকজন মাইক বাজিয়ে দাঁড়িপাল্লার উঠান বৈঠক পণ্ড করেছেন। এছাড়া এরুলিয়া এলাকায় জামায়াতের এক কর্মীকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। প্রচারণা শুরুর পর থেকেই দাঁড়িপাল্লার ব্যানার ও ফেস্টুন খুলে ধানের শীষের ব্যানার টাঙানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিমের পাল্টা বক্তব্য

অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম আজ রোববার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতের প্রার্থীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, শহরের সাতমাথাসহ বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে বা ঢেকে দিয়ে দাঁড়িপাল্লার ব্যানার ঝোলানো হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। রেজাউল করিম বলেন, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে ও পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে ধানের শীষের বিপক্ষে মিথ্যা অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সহনশীল অবস্থানে আছেন এবং কোনো উসকানিতে পা দিচ্ছেন না।’ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নেতা-কর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানান তিনি। রেজাউল করিম দাবি করেন, ভোটাররা তাঁদের পক্ষে রয়েছেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাঁরা বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

প্রশাসনের ভূমিকা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি

বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানিয়েছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোথাও সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে। নির্বাচনে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো এবং নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনী ও পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে।

এই উপনির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ আবিদুর রহমানের মতে, এটি সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা-অনাস্থার প্রতিফলন ঘটাবে। অন্যদিকে, রেজাউল করিমের দাবি, ধানের শীষের গণজোয়ারেই প্রতিপক্ষের নিশ্চিত ভরাডুবি হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে, যা ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।