খুলনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চার ও জামায়াতের দুই আসনে জয়
খুলনায় বিএনপির চার ও জামায়াতের দুই আসনে জয়

খুলনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চার ও জামায়াতের দুই আসনে জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। বাকি দুটি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রথমবারের মতো খুলনা নগর এলাকার একটি আসনে জয় পেল জামায়াত। বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে খুলনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার এসব আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

বিএনপির জয়ী প্রার্থীরা

খুলনা-১ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমির এজাজ খান জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট। খুলনা-৩ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম (বকুল) বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট। খুলনা-৪ আসনে বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক এস কে আজিজুল বারী (হেলাল) জয় পেয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ১৬২ ভোট। খুলনা-৫ আসনে বিসিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগার বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট।

জামায়াতের জয়ী প্রার্থীরা

খুলনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগর সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন (হেলাল) জয় পেয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট। খুলনা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৭২৪ ভোট।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরাজিত প্রার্থীদের অবস্থা

খুলনা-৫ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। খুলনা-২ আসন থেকে খুলনা নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু হেরে গেছেন। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। খুলনা-১ আসনের জামায়াতের আলোচিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী হেরেছেন ৫০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে। তিনি পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আসনভিত্তিক বিশ্লেষণ

খুলনা-১ আসনে হিন্দু-অধ্যুষিত দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এবারের নির্বাচনে এখানে ১২ জন প্রার্থী ছিলেন, যার মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের আটজন। জামায়াতে ইসলামী প্রথা ভেঙে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সাবেক সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করেছিল। তিনি সারা দেশে আলোচনা তৈরি করলেও ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। এই আসনে তৃতীয় অবস্থানে আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু সাঈদ, যিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৬১৯ ভোট।

খুলনা-২ আসনে ২০০৮ সালে একমাত্র বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের পর এই আসনে জামায়াত কখনো প্রার্থী দেয়নি। এবার জামায়াতের শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বিজয়ী হয়েছেন।

খুলনা-৩ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৯ জন এবং ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ১০৪টি। এখানে মোট ১০ জন প্রার্থী ছিলেন।

খুলনা-৪ আসনে খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে শুধু এই আসনটি জামায়াত তাদের জোটসঙ্গীকে ছেড়ে দিয়েছিল।

খুলনা-৫ আসনে লক্ষাধিক ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের। দুই প্রার্থীই হিন্দু ভোট পেতে চেষ্টা চালিয়েছিলেন। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, হিন্দু ভোট ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যবধান তৈরি করেছে।

খুলনা-৬ আসনে জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ ২৬ হাজার ১৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।