মমতার ‘বাংলাদেশের খুন’ বক্তব্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌতূহল ও প্রতিক্রিয়া
মমতার ‘বাংলাদেশের খুন’ বক্তব্যে দলগুলোর কৌতূহল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ‘বাংলাদেশে কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন জানি’ এই মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার সতর্ক অবস্থান নিলেও জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনে করছে, মমতা ব্যানার্জী ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। এই খবর বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এনসিপির ব্যাখ্যা দাবি

এনসিপি মনে করে, মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্যে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম উল্লেখ থাকায় বাংলাদেশ সরকারের ভারত সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করা উচিত। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘হাদির অ্যাক্টিভিজম ও প্রেক্ষাপট, খুনিদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া—এসব বিবেচনায় নিতে হবে। সীমান্তে কড়াকড়ি থাকার পরও কীভাবে খুনিরা দ্রুত ভারতে আশ্রয় পেল?’

জামায়াতের প্রতিক্রিয়া

জামায়াতে ইসলামী বলছে, মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্য থেকে ‘বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে ভারতীয় খেলার’ ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘তার কথা থেকে বোঝা যায় যে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং আধিপত্যবাদী চিন্তা থেকে এ দেশের রাজনীতিতে খেলা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে মমতা ব্যানার্জীর এ বক্তব্য সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের অবস্থান

সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘পাশের দেশে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে তিনি পরাজিত হয়েছেন এবং তাদের সরকারকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেছেন। এটি আমাদের আলোচনার বিষয় নয়।’ তিনি আরও জানান, ভারত সরকার যদি হাদি হত্যা সম্পর্কে বাংলাদেশকে জানায়, তবে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে বিষয়ে কাজ করবে। ‘হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে। আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি এবং অগ্রগতিও হয়েছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মমতা কী বলেছিলেন?

গত মঙ্গলবার (২ জুন) কলকাতার ধর্মতলায় একটি ধর্না মঞ্চ থেকে বক্তব্য দেন মমতা ব্যানার্জী। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে এসটিএফ অ্যারেস্ট করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রেভল্যুশন হয়েছিল।’ তিনি দাবি করেন, ‘হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে বলেন, আপনি বেঙ্গল পুলিশকে বলে দিন এই কথা যেন বাইরে না যায়। এটা দেশের স্বার্থে।’ মমতা আরও বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজ গভর্নমেন্ট চেঞ্জ হলেও আমি তো সবটাই জানি।’

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ

চলতি বছরের মার্চে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ ওসমান হাদি হত্যার দুই মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করে। তারা মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকেছিল। পরে ফিলিপ সাংমা নামে আরেক অভিযুক্তকে নদিয়ার শান্তিপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওসমান হাদি। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইনকিলাব মঞ্চ নামে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের নাম আসায় এবং মমতার মন্তব্যে অমিত শাহের নাম থাকায় বাংলাদেশ সরকার একটি ব্যাখ্যা চাইতে পারে। তবে নির্বাচনের পর পরস্পরকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি বাংলাদেশের মতো ভারতেও আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মমতা যা বলেছেন নির্বাচনে হারার পর বলেছেন। এর সূত্র ধরে এ দেশেও কিছু লোক রাজনীতি করছে। তবে দেখতে হবে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিক থেকে কোনো জবাব আসে কিনা।’

সামাজিক মাধ্যমে মমতার বক্তব্য নিয়ে শোরগোল শুরু হলেও মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। বিএনপি নেতারা অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। জামায়াতের কেউ কেউ মনে করেন, বিজেপি ও মমতার নির্বাচনি দ্বন্দ্বের কারণেই বাংলাদেশকে জড়িয়ে এমন মন্তব্য এসেছে।