পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন শুরু, কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল ও নিরাপত্তা জোরদার
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন শুরু, কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোট, কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল জোরদার

আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ আসনের নির্বাচন শুরু হচ্ছে। প্রথম দফায় ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান।

প্রার্থী সংখ্যা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি

প্রথম দফার ১৫২ আসনে মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল ১ হাজার ৫২৫টি। কোচবিহার দক্ষিণ ও ইটাহার আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন করে প্রার্থী রয়েছেন। নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং কলকাতার রাস্তায় টহল চালাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ি ব্যবস্থা

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটে কোনো ধরনের হাঙ্গামা, বুথ দখল বা জাল ভোটের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশেও এবার কড়াকড়ি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভোটারদের নির্ধারিত পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্লিপ সংগ্রহ করে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ রাখা হবে এবং ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটার এলাকার মধ্যে আলাদা ক্যাম্প থাকবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এরই মধ্যে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে দুই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া নেতারা হলেন বীরভূমের ডালিম শেখ ও মুর্শিদাবাদের রাজু মণ্ডল। নির্বাচন কমিশন আরও সতর্ক করেছে, ভোটারদের ভয় দেখানো, বাধা দেওয়া, হামলা করা বা ভোটপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলাচল করতে হবে এবং রাতে মোটরসাইকেল চলাচলে কড়াকড়ি থাকবে।

রাজনৈতিক নেতাদের তৎপরতা

এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গতকাল মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে একাধিক জনসভায় অংশ নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগপর্যন্ত তিনি রাজ্যে থাকবেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি নিউটাউনের বিজেপি কার্যালয়ে দলের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দফার ভোটের প্রচার শেষের প্রাক্কালে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিজেপিকে হারিয়ে তৃণমূলকে আবার ক্ষমতায় আনুন। তৃণমূলই রাজ্যে শান্তি দিতে পারবে।’

রাজ্যপালের আহ্বান ও হেল্পলাইন

রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, লোকভবনে একটি হেল্পলাইন ডেস্ক চালু করা হয়েছে, যাতে ভোটসংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুত জানানো যায়। এই হেল্পলাইন ভোটারদের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ হবে ২৯ মে। আর ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য সকল পক্ষের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।