পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সামনে রেখে টানা কয়েক সপ্তাহের উত্তপ্ত নির্বাচনি প্রচারণা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রচারণার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি নিজ নিজ শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত ছিল।
নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নির্বাচনের এই মহাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে পুরো রাজ্যে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে ২ লাখ ৪০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। ভোটের আগের রাতে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে নন্দীগ্রামে এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই একটানা ভোট চলবে।
উত্তপ্ত প্রচারণার শেষ দিন
নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের সশরীরে উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করেছে। নন্দীগ্রাম আসনে বিজেপির প্রভাবশালী প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী নিজে জনসংযোগে অংশ নিয়েছেন, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও শেষ দিনে চারটি নির্বাচনি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়েছেন। আসানসোল দক্ষিণে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের সমর্থনে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা রোড শো করেছেন এবং কুলটি আসনে অমিত শাহ জনসভা পরিচালনা করেছেন।
সংঘাত ও উত্তেজনার খবর
তবে এই শেষ মুহূর্তের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ও মুর্শিদাবাদের নওদাসহ বেশ কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘাত ও উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। দাঁতনে বিজেপি প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে তাঁর হাত ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনাগুলো নির্বাচনি পরিবেশে কিছুটা অশান্তির সৃষ্টি করেছে।
প্রার্থী ও ভোটারদের বিশদ বিবরণ
প্রথম দফার এই নির্বাচনে ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার। ভোটারদের সুবিধার জন্য নির্বাচন কমিশন মোট ৪৪ হাজার ৩৭৮টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে। এবারের নির্বাচনে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ এবং নারী ভোটার ১ কোটি ৭৫ লাখের কাছাকাছি। এ ছাড়াও ৪৬৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও প্রার্থীরা
নির্বাচনি ময়দানে তৃণমূল ও বিজেপির সমানে সমান লড়াইয়ের পাশাপাশি কংগ্রেস, সিপিআইএম, আইএসএফ এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের উদয়ন গুহ, মানস ভূঁইয়া এবং মলয় ঘটক। বিজেপির পক্ষে দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক ও অশোক দিন্দার মতো পরিচিত মুখগুলো প্রথম দফায় অগ্নিপরীক্ষায় বসছেন। এ ছাড়া কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীরও এই দফার অন্যতম নজরকাড়া প্রার্থী।
টানটান উত্তেজনা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
পাহাড় থেকে সমতল—সব জায়গাতেই এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে, কারণ এই ১৫২টি আসনের ফলাফলই রাজ্যের পরবর্তী ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। ভোটগ্রহণের পর ফলাফল ঘোষণার অপেক্ষায় থাকবে গোটা রাজ্য, যা রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মোড় নিতে পারে।



