পহেলা বৈশাখের নিরাপত্তায় রাজধানীতে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ২০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) বিজিবির এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত
বিজিবির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পহেলা বৈশাখে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রমনা বটমূল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন এলাকা, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, দোয়েল চত্বর, শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর, রমনা পার্ক এবং ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর – এই সকল স্থানে বিজিবি সদস্যরা বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়
বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা অন্যান্য সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। একইসঙ্গে, তারা দেশের সকল নাগরিককে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।
বৈশাখী উৎসবের সূচনা
এদিকে, ‘জীর্ণ পুরাতন যাক মুছে যাক, নব আলোয় জাগুক প্রাণ’ – এই চিরন্তন বাণীর মধ্য দিয়ে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে গেছে বাঙালির প্রাণের সর্ববৃহৎ উৎসব পহেলা বৈশাখ। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে পুরোনো সকল দুঃখ-বেদনা ভুলে গিয়ে নতুন আশা ও অফুরন্ত উদ্দীপনায় সারা দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ একত্রিত হয়ে এই উৎসবে অংশ নিচ্ছেন, যা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান
ঐতিহ্যবাহী রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বাংলা নববর্ষের উদযাপন। ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ – এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে গান পরিবেশন করছেন, যা পুরো এলাকায় এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ সৃষ্টি করেছে।
বৈশাখী শোভাযাত্রার বর্ণিলতা
প্রতিবারের মতোই এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয়েছে বর্ণিল ও জমকালো বৈশাখী শোভাযাত্রা। এবারের শোভাযাত্রায় মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি এবং ঘোড়া – এই পাঁচটি প্রধান মোটিফ স্থান পেয়েছে, যেগুলোকে যথাক্রমে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিশীলতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই শোভাযাত্রা বাঙালির শিল্প-সংস্কৃতির সমৃদ্ধিকে ফুটিয়ে তুলছে।



