মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং হত্যা: আরেক আসামি সুমন গ্রেপ্তার, মোট আটক চার
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দিনের বেলায় কুপিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের এক দলনেতাকে হত্যার ঘটনায় আরেকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. সুমন, যার বয়স ২৫ বছর। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার সন্ধ্যায় রায়েরবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এ ঘটনায় মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে, যা এলাকায় চলমান তদন্তের একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের পটভূমি ও বিরোধের সূত্রপাত
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, গতকাল রোববার বিকেলে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের দুটি গ্রুপের মধ্যে তীব্র বিরোধের জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এলেক্স গ্রুপ ও আরমান শাহরুখ গ্রুপ নামক এই দুটি দলের মধ্যে সম্প্রতি বিরোধ শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে সহিংসতার দিকে মোড় নেয়। রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সংঘটিত হামলায় গুরুতর আহত হন ইমন, যিনি এলেক্স গ্রুপের প্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন, যা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
মামলা দায়ের ও তদন্তের অগ্রগতি
এ ঘটনায় নিহত ইমনের মা ফেরদৌসি বাদী হয়ে রোববার মধ্যরাতে মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় মোট ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে, যা ঘটনার গভীরতা ও জটিলতা নির্দেশ করে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. জুয়েল রানা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, "এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে এবং এজাহারভুক্ত আরেক আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।"
পুলিশের তথ্যমতে, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রোববার ঘটনাস্থল থেকে মো. সাইফ (২৩), তুহিন (২০) ও মো. রাব্বী কাজী (২৫) আটক করা হয়। মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ বিকেলে মো. সুমন (২৫) নামে আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা তদন্তকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জব্দকৃত অস্ত্র ও গ্রুপের পরিচয়
ঘটনাস্থল থেকে আটক তিনজনের কাছ থেকে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে:
- তিনটি চাপাতি
- একটি কাটার
- স্টিলের একটি পাত
এই অস্ত্রগুলো হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে। গ্রেপ্তারকৃত চারজনই আরমান–শাহরুখ গ্রুপের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা বিরোধের পক্ষগুলোর স্পষ্টতা তুলে ধরে। পুলিশ এখন অন্যান্য আসামিদের খুঁজে বের করতে তৎপর রয়েছে, যাতে সম্পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।



