গাজীপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর স্বামী পালিয়েছেন, প্রতিবেশীকে ফোন করে লাশ উদ্ধারের অনুরোধ
গাজীপুরে স্ত্রী হত্যার পর স্বামী পালিয়েছেন, প্রতিবেশীকে ফোন

গাজীপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর স্বামী পালিয়েছেন, প্রতিবেশীকে ফোন করে লাশ উদ্ধারের অনুরোধ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। স্বামী মো. অপু তার স্ত্রী ঝর্ণা আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যার পর প্রতিবেশীকে ফোন করে লাশ উদ্ধারের অনুরোধ জানিয়ে পালিয়ে গেছেন। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের জংলাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ঝর্ণার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ

প্রতিবেশীদের বর্ণনা অনুযায়ী, নিহত ঝর্ণা আক্তার জংলাপাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি দুই বছর আগে নিজের পছন্দে মো. অপু নামের এক যুবককে বিয়ে করেন। অপু পেশায় একজন মিনিবাসচালক। বিয়ের পর থেকে তারা জংলাপাড়া এলাকায় মাসুদ মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকেই ঝর্ণার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রতিবেশীর সাক্ষ্য

বাড়ির মালিক লাভলী আক্তার জানান, গতকাল সন্ধ্যায় বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়া তানিয়াকে মুঠোফোনে কল করেন অপু। ফোনে অপু জানান, তিনি তার স্ত্রী ঝর্ণাকে হত্যা করেছেন এবং কেউ যেন লাশটি উদ্ধার করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে তালাবদ্ধ ঘর থেকে ঝর্ণার নিথর দেহ উদ্ধার করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহতের পরিবারের প্রতিক্রিয়া

নিহত ঝর্ণার বাবা হামিদুল ইসলাম বলেন, দুই বছর আগে ঝর্ণা ও অপু নিজেদের মতো বিয়ে করে। এর পর থেকে পরিবারের সঙ্গে ঝর্ণার কোনো যোগাযোগ ছিল না। গতকাল রাতে তাঁকে জানানো হয় ভাড়া বাড়ির কক্ষ থেকে মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হামিদুলের ধারণা, তার মেয়েকে অপু হত্যা করে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা কামনা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তালাবদ্ধ ঘরের দরজা ভেঙে লাশটি উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী অপু পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। নিহতের পরিবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে, এবং সামগ্রিকভাবে এলাকায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।