সুন্দরবনে দস্যু তৎপরতা দমনে যৌথ অভিযান শুরু
সুন্দরবনের দস্যু তৎপরতা দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দস্যু দমনে কোস্টগার্ডের প্রতিশ্রুতি
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সর্বদা সক্রিয় এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, দস্যুতা দমনে কোস্টগার্ড নিয়মিত যৌথ অভিযান এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
গত দেড় বছরের অভিযানের সাফল্য
বিগত দেড় বছর ধরে কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। অভিযানগুলোতে:
- করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীর মোট ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
- ৮০টি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
- ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩০৮ রাউন্ড ফাঁকা গোলা ও ১ হাজার ৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
- দস্যুদের কবল থেকে ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়েছে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুজন আরও বলেন, সুন্দরবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সুন্দরবনের ভেতরে ও আশপাশের নদী ও খালে কোস্টগার্ডের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও ডাকাত বাহিনীর কয়েকটি আস্তানা শনাক্ত করে সেগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কোস্টগার্ডের এই অভিযান সুন্দরবনের পরিবেশ ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।



