চট্টগ্রামে পাঁচলাইশ থানায় ১২৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে সিএমপির নজরদারি শুরু
চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে আরও একটি থানাকে সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। নগরীর পাঁচলাইশ থানার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোট ১২৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নজরদারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।
কমিশনারের উদ্বোধনী বক্তব্য
বুধবার (৮ এপ্রিল) এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সিসিটিভি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় আসবে, যা অপরাধ দমন ও দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
কমিশনার শওকত আলী জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং জোরদার করা হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে। এই পদক্ষেপটি চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
থানা পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ সুবিধা
পাঁচলাইশ থানার ওসি আবদুল করিম জানান, নগরীর দ্বিতীয় থানা হিসেবে পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় এসেছে। তিনি বলেন, "সিএমপি সদর দপ্তর এবং থানা থেকে বসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। ওসি হিসেবে আমি নিজেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নজরদারি করতে সক্ষম হব।"
ওসি আবদুল করিমের আগের দায়িত্বস্থল কোতোয়ালি থানাতেও সিসিটিভি নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছিল, যা এই ধরনের প্রযুক্তিগত উদ্যোগের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
- সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (অর্থ ও প্রশাসন) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী
- অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ
- উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী
এই উদ্যোগটি চট্টগ্রামে অপরাধ প্রতিরোধ ও নাগরিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো থানার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে, যা পুলিশের নজরদারি ক্ষমতা বাড়িয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করবে।



