গাজীপুরে ডাকাতি: বাধা দেওয়ায় গৃহবধূ আসমা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা
গাজীপুরের সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে এক মর্মান্তিক ডাকাতির ঘটনায় আসমা আক্তার (৫৫) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে আনিছুর রহমান নামে এক নৈশপ্রহরীর বাড়িতে ডাকাতদল হানা দেয়, যেখানে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের পাশাপাশি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে পুরো পিরুজালী গ্রাম বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিল। এই সুযোগে ডাকাতরা আনিছুর রহমানের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং বাড়ির সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। তারা আসবাবপত্র ভেঙে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়।
বাধা দেওয়ার সময় আসমা আক্তারকে ডাকাতরা গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনায় আরও এক নারী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারের পটভূমি ও প্রতিক্রিয়া
নিহত আসমা আক্তার গাজীপুর সদরের পিরুজালী মধ্যপাড়া এলাকার আনিছুর রহমানের স্ত্রী। তার স্বামী আনিছ বাড়ির পাশের একটি প্রতিষ্ঠানে নৈশপ্রহরী হিসেবে কাজ করেন, আর ছেলে সাকিব হোসেন পিরুজালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী। ঘটনার সময় তারা দুজনেই কর্মস্থলে ছিলেন, যা এই ট্র্যাজেডিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।
পিরুজালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, "শুনেছি, ডাকাতের কাজে বাধা দেওয়ায় এক নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।" তার মন্তব্য স্থানীয় সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ও শোককে প্রতিফলিত করে।
পুলিশের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
জয়দেবপুর থানার ওসি নয়ন কর ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, "এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এটা ডাকাতি নাকি অন্য কোনো ঘটনা সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।" পুলিশের তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রমাণ সংগ্রহ করছে, যা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
এই ঘটনা গাজীপুরে সাম্প্রতিক সময়ের একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। স্থানীয় বাসিন্দারা এখন ভয় ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, আশা করছেন দ্রুত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।



