ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীন ইসলামকে পিটিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত প্রভাবশালী চক্র
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে পিটিয়ে হত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীন ইসলামকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত দ্বীন ইসলাম স্থানীয়ভাবে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামের একটি ফেসবুক ও ইউটিউব পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করতেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দ্বীন ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় বুড়ি নদ পার করে কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় নদের পাড়ে ফেলে রেখে যায়। পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাইলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি বাঙ্গরা থানাকে জানায়।

বাঙ্গরা থানার সিদ্ধিরগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা দ্বীন ইসলামকে উদ্ধার করে কসবা থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

নিহত দ্বীন ইসলামের বাবা সফিকুল ইসলাম দাবি করেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে হত্যা করেছে। তিনি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল ও তাঁর সহযোগী ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল আওয়াল বলেন, দ্বীন ইসলাম খারাপ প্রকৃতির লোক ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কসবা থানাসহ বিভিন্ন থানায় অনেক মামলা আছে। তিনি বলেন, ‘তাঁকে মারধর করে মেরে ফেলা হয়েছে বলে শুনেছি, তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। ষড়যন্ত্র করে একটি চক্র আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার করছে।’

পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কয়েকজন দ্বীন ইসলামকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে হত্যা করেছে। নিহতের বিরুদ্ধে কসবা থানায় মাদক, চুরি, ডাকাতিসহ প্রায় ১০টি মামলা আছে। হত্যার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, একটি নিউজ প্রকাশের জেরে কিছু লোকজন দ্বীন ইসলামকে বাড়ি থেকে তুলে কুমিল্লার বাঙ্গরা এলাকায় নিয়ে মারধর করে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মরত কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা কর্তৃপক্ষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।