সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুর থেকে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিন কার্গো এলএনজি ক্রয়
কর্মকর্তাদের মতে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫-এর নিয়ম ১০৫(৩)(এ) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক উদ্ধৃতি আহ্বানের (আরএফকিউ) মাধ্যমে তিন কার্গো এলএনজি সংগ্রহ করা হবে। অনুমোদিত প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২৬তম কার্গোটি ২০২৬ সালের ২৬-২৭ জুন, ২৭তম কার্গোটি ৩০ জুন-১ জুলাই এবং ২৮তম কার্গোটি ৬-৭ জুলাই সরবরাহ করা হবে। তিন কার্গোর মধ্যে একটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড এবং বাকি দুটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড সরবরাহ করবে। তিন কার্গো সংগ্রহের মোট ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৩৭২ কোটি ২১ লাখ টাকা, যার মধ্যে কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সুইজারল্যান্ড থেকে দুটি কার্গো সরাসরি ক্রয়
কমিটি সুইজারল্যান্ড থেকে ২০২৬ সালে দুটি এলএনজি কার্গো সরাসরি ক্রয়ের আরেকটি প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে। এই দুটি কার্গোর চূড়ান্ত ব্যয় এখনও নির্ধারিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সোকার ট্রেডিং এসএ স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী সরকারি পর্যায়ের (জিটুজি) চুক্তির পাশাপাশি একটি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রস্তাব দিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির অনুমোদন
গত বছর ২০ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির এক সভায় জিটুজি কাঠামোর অধীনে ২০২৬ সালে সোকার ট্রেডিং এসএ থেকে বেশ কয়েকটি এলএনজি কার্গো আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সোকার ট্রেডিং এসএ থেকে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূত্রের ভিত্তিতে নির্ধারিত দামে দুটি এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করতে পারবে, যা জেকেএম প্লাস প্রতি এমএমবিটিইউতে ০.১২৫ ডলার। এ পদক্ষেপ স্পট মার্কেট থেকে ক্রয়ের তুলনায় সাশ্রয়ী বিকল্প সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কমিটির অনুমোদিত প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রতিটি এলএনজি কার্গোতে প্রায় ৩.৩৬ মিলিয়ন এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকবে।



