ঢাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব হত্যার রহস্য উদঘাটন, পাঁচজন গ্রেফতার
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলাম (রাকিব) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত পিস্তলসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রেমঘটিত দ্বন্দ্ব
ডিসি মাসুদ আলম জানান, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ছিল এবং এর পেছনে প্রেমঘটিত দ্বন্দ্ব কাজ করেছে। ঘটনার বিস্তারিত ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এটি কোনো তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ফল নয়। রাকিবকে হত্যার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয় এবং এ কাজে ঢাকাসহ বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাড়াটে খুনিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
হামলার ভয়াবহ বিবরণ
মামলার তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রোববার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে শহিদ মিনারের সিঁড়িতে আড্ডা দিচ্ছিলেন বোরহান উদ্দিন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম। রাত আনুমানিক সোয়া ৯টার দিকে তিনি মোটরসাইকেল পার্ক করে বসার পরপরই ওত পেতে থাকা ৫-৬ জন সশস্ত্র হামলাকারী তার ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে, এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্তে ভয়াবহতা প্রকাশ
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রাকিবের শরীরে পাঁচটি গভীর কোপের চিহ্ন এবং পিঠ ও পেটে গুলির ক্ষত পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এই হত্যাকাণ্ডটি শহিদ মিনারের মতো একটি প্রতীকী স্থানে সংঘটিত হওয়ায় তা সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশের দ্রুত তদন্ত ও গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনের শাসন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে।



