অটোরিকশাচালকের ভাড়া বাকিতে ১২ বছরের শিশু অপহরণ, জনতার হাতে ধরা পড়েন
ভাড়া বাকিতে শিশু অপহরণ, অটোচালক ধরা পড়লেন

ভাড়া বাকিতে শিশু অপহরণের চেষ্টা, অটোরিকশাচালক ধরা পড়লেন

রাজশাহী নগরের কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় এক অটোরিকশাচালক ভাড়া বাকি ১০ টাকার জন্য ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে, যেখানে চালক যাত্রীর নাতিকে অপহরণের চেষ্টা করেন এবং পরে জনতার হাতে ধরা পড়ে পুলিশে সোপর্দ হন।

ঘটনার বিবরণ

মেহেদী হাসান নামের শিশুটি পবা উপজেলার সোনাইকান্দি গ্রামে খালার বাড়িতে থেকে মাদ্রাসায় পড়ে। তার নানি কাজল রেখার সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। অটোরিকশাচালক মো. আকাশ (২৫) মোট ভাড়া ২০ টাকা দাবি করলেও, নানির কাছে মাত্র ১০ টাকা ছিল। তিনি বাকি ১০ টাকা পরে দেবেন বলে আশ্বাস দিলে চালক তা মানেননি।

কাশিয়াডাঙ্গা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নূর হোসেন জানান, চালক শিশুটিকে রিকশায় তুলে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে আরেক হাত দিয়ে রিকশা চালিয়ে সেখান থেকে চলে যান। নানি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আহাজারি করতে থাকেন এবং পরে নগরের হড়গ্রাম এলাকায় চালককে শনাক্ত করেন। স্থানীয় লোকজন চালককে ধরে ধোলাই দেন এবং কাশিয়াডাঙ্গা থানায় সোপর্দ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চালকের বক্তব্য ও পুলিশি ব্যবস্থা

অটোচালক আকাশ ১০ টাকা ভাড়ার জন্য শিশুটিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, তবে দাবি করেন কিছু দূর গিয়ে তিনি বাচ্চাটাকে ছেড়ে দিয়েছেন। শিশুটির বাবা মকবুল হোসেন অভিযোগ করেন, চালক বাচ্চাটি অপহরণের চেষ্টা করেছেন এবং বেকায়দায় পড়ে নামিয়ে দিয়েছেন। তিনি গরিব মানুষ হিসেবে অনেক কষ্টে সন্তান মানুষ করছেন বলে উল্লেখ করেন।

ঘটনার সূত্রপাত রাজপাড়া থানা এলাকা থেকে হওয়ায়, অটোচালককে রাজপাড়া থানায় পাঠানো হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, মামলা করাও যায় বা মিলমিশ করেও দেওয়া যায়, তবে শিশুর বাবা রাজি না হলে মামলা করতে হবে। আপাতত চালককে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাঁর অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরবর্তী অবস্থা

শিশুটি একাই বাড়ি চলে যায় এবং পরে পুলিশ তার কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শোনে। শিশুটির বাবা বেলা পৌনে তিনটার দিকে রাজপাড়া থানায় পৌঁছে মামলা করার ঘোষণা দেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যা শিশু সুরক্ষা ও গণপরিবহন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।