পবিপ্রবিতে কমিশন না পেয়ে পিডিকে অবরুদ্ধের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে
পবিপ্রবিতে পিডিকে অবরুদ্ধের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) চলমান অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ওবায়দুল ইসলামকে কমিশন না দেওয়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাঁর নিজ কক্ষে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে এই ঘটনা ঘটে।

পিডির দাবি: কমিশনের জন্যই অবরুদ্ধ

অবরুদ্ধ অবস্থায় পিডি ওবায়দুল ইসলাম একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চলমান প্রকল্পের পরিশোধিত বিলের এক শতাংশ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে অবরুদ্ধ করা হয়। তিনি আরও বলেন, গত ৭ এপ্রিলও ছাত্রদল নেতারা একই দাবিতে তাঁর কাছে এসেছিলেন, কিন্তু তিনি তাঁদের ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এদিন তারা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর কার্যালয়ের দরজায় তালা লাগিয়ে আটকে রাখেন।

মুক্তির পর বক্তব্য পরিবর্তন

প্রায় দুই ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে পিডি ছাত্রদল নেতাদের পাশে বসে বলেন, বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি ছিল এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে পরবর্তীতে যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ক্যাম্পাস থেকে বের হতে তখন তাঁকে যা বলতে বলা হয়েছে সেটাই তিনি বলতে বাধ্য হয়েছেন। এখন ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় নিরাপদ বোধ করছেন এবং কমিশন না দেওয়ার কারণেই তাঁকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এভাবে কমিশন দিয়ে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছাত্রদলের পাল্টা অভিযোগ

পবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম টেন্ডার দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেন এবং পদে পদে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কাজের গুণগতমান বজায় রাখার অনুরোধ করলেও তিনি তা উপেক্ষা করে অনিয়ম-দুর্নীতি বহাল রাখেন। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করেছেন। চাঁদা দাবির অভিযোগকে তিনি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

সভাপতির বক্তব্য

পবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাতুল জানান, প্রকল্প পরিচালক পরে ভুল স্বীকার করেছেন এবং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে কোনো চাপ তৈরি করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

প্রকল্প পরিচালকের অস্বীকৃতি

দুর্নীতি ও অনিয়মের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।

উপাচার্যের ভূমিকা

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি দাপ্তরিক কাজে বরিশালে ছিলেন। প্রকল্প পরিচালক মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানালে তিনি প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে কল করে সমাধানের নির্দেশ দেন।

প্রকল্পের পটভূমি

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয় ৪৩৫ কোটি টাকা। পর্যায়ক্রমে অনেক কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ৯১ কোটি টাকার কাজ চলমান। এই প্রকল্পের কাজ নিয়ে ছাত্রদল ও প্রশাসনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে।