নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ তিনজনকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুর চালানো হয়। বুধবার (৩ জুন) সকালে উপজেলার মাছুমাবাদ (মিঠাব) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার বিবরণ
ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ ভুঁইয়া, তার ছেলে জুম্মন ভুঁইয়া ও সুমন ভুঁইয়া অভিযোগ করেন, একই এলাকার মৃত আব্দুল হাই ভুঁইয়ার ছেলে সোহেল ভুঁইয়া এবং তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দিলে যে কোনো সময় হামলার হুমকি দেওয়া হয়। দাবিকৃত টাকা না পাওয়ায় সোমবার (১ জুন) রাত ১০টার দিকে সোহেল ভুঁইয়া, তুষার, সাদ্দাম, রোমানসহ অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জন জুম্মন ভুঁইয়ার মুদি দোকানে হামলা চালায়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদকে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
হাসপাতালে ভর্তির কৌশল
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর হামলাকারী সোহেল নিজেকে আহত দেখিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তবে সরেজমিন হাসপাতাল পরিদর্শনে তাকে ভর্তি অবস্থায় পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের নথিতে ভর্তি দেখানো হলেও বাস্তবে তার উপস্থিতির কোনো প্রমাণ মেলেনি। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক বাদল কুমার সাহা বলেন, সোহেল ভুঁইয়া নামের এক রোগী স্বাভাবিক আঘাত নিয়ে ভর্তি হন। পরে তাকে আর হাসপাতালে পাওয়া যায়নি; ধারণা করা হচ্ছে তিনি হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন।
পুনরায় হামলা
বুধবার সকালে সোহেলের নেতৃত্বে একই পক্ষ আবারও মুক্তিযোদ্ধা বাছেদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাছেদ ভুঁইয়া, জুম্মন ভুঁইয়া ও সুমন ভুঁইয়াকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
পুলিশের বক্তব্য
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



