সীতাকুণ্ডে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় যৌথ বাহিনীর একটি নির্মাণাধীন ক্যাম্পে রবিবার গভীর রাতে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। হামলায় অন্তত ৩০০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি অংশ নেয়, যাদের হাতে ছিল একে-৪৭ রাইফেলের মতো অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায় সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা।
বুলডোজার দিয়ে ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়া
হামলাকারীরা বুলডোজার দিয়ে আলীনগর স্কুলে অবস্থিত যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পের পেছনের দেয়াল ভেঙে দেয়। স্কুলের শেষ প্রান্তে নির্মাণাধীন অস্থায়ী ক্যাম্পটির ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল, যা তারা প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যাতায়াত ঠেকাতে সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ কেটে দেওয়া হয়।
যৌথ অভিযান ও আটক
ঘটনার পরপরই র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অন্তত ২০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তবে হতাহতের কোনো খবর এখনও পাওয়া যায়নি। র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, রাস্তা কেটে দেওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালানো হয় এবং বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে।
হামলার বিবরণ
র্যাব-৭-এর অধিনায়ক বলেন, রবিবার রাত ১টার দিকে ইয়াসিন বাহিনীর ২৫০-৩০০ সশস্ত্র সদস্য সংঘবদ্ধ হয়ে এই হামলা চালায়। তাদের হাতে রামদা, দেশীয় অস্ত্র এবং একে-৪৭ রাইফেল ছিল। হামলাকারীরা গুলি করে বাহিনীর সদস্যদের ব্যস্ত রাখে এবং সেই সুযোগে ভাঙচুর চালায়। পাহাড়ে থাকা টিনের ঘরের ভেতর থেকে টিন ফুটো করে বন্দুকের নল বের করে গুলি ছোড়ে তারা।
পুলিশের বক্তব্য
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে যত ঝাঁকুনি দেওয়া হোক না কেন, পিছু হটার সুযোগ নেই। ইয়াসিন, রোকন বা যারাই জড়িত থাকুক, সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, হামলার আগে ভেকু মেশিন দিয়ে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়। আলিনগর এলাকায় নির্মাণাধীন অস্থায়ী ক্যাম্পটিই ছিল হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান নিতে না পারে।
প্রতিরোধ ও গুলিবর্ষণ
পুলিশ সুপার আরও জানান, হামলার সময় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা শটগান, চাইনিজ রাইফেল ও গ্যাস গান ব্যবহার করে পাল্টা জবাব দেয়। পুরো ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ১০৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। কঠোর প্রতিরোধের কারণে হামলাকারীরা ক্যাম্পে ঢুকতে পারেনি এবং বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হননি। তবে হামলাকারীরা ভেকু মেশিন দিয়ে ক্যাম্পের কিছু অবকাঠামো ভেঙে ফেলে। রাস্তা কেটে দেওয়ায় অনেককে হেঁটে ঘটনাস্থলে যেতে হয়েছে। শেষরাতে হামলাকারীরা পাহাড়ি এলাকায় সরে যায়।
পরিস্থিতি বর্তমানে
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ রাত ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে নন-লেথাল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলে। পরে যৌথ বাহিনী এলাকায় প্রবেশ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। সকাল থেকে যৌথ বাহিনী এলাকাজুড়ে অভিযান চালায় এবং দুপুরে ঘটনাস্থল ঘিরে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে।



