জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার ৯ দিন পরও গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্ত। আসামির গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করেছে ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস আন্দোলন’। বেলা তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা
নিরাপদ ক্যাম্পাস আন্দোলনের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আফিফা ইবনাত। তিনি বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে একজন ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন। ঘটনার ৯ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত আসামি সম্পর্কে কোনো তথ্যই জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর থেকে আর লজ্জার কী হতে পারে? দেশের বিচারব্যবস্থার কী হাল, সেটা এ ঘটনা দিয়েই বোঝা যায়। ধর্ষণচেষ্টার আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।’
একই দাবিতে দুপুর ১২টার দিকে শহীদ মিনারের পাদদেশে মানববন্ধন করেন ইসলামী ছাত্রী সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা। সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, ‘রামিসা হত্যাকাণ্ড কিংবা বনশ্রীতে শিশু ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করে দেশে নারী ও শিশুরা নিরাপদ নয়। বিচারহীনতার কারণেই অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তনু হত্যা, পূজা হত্যা কিংবা আরও বহু ঘটনার বিচার বছরের পর বছর ঝুলে আছে। এতে সাধারণ মানুষের বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যাচ্ছে। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল ও দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত বিচার কার্যকর করতে হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’
ঘটনার বিবরণ
১২ মে রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলতুন্নেছা হলসংলগ্ন সড়ক থেকে এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এরপর সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন একজনের চেহারা নিশ্চিত হওয়া গেলেও এখনো তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরদিন ১৩ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা ও ধর্ষণচেষ্টার মামলা করে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইলমা রহমান বলেন, ‘ঈদের আগে আজ ক্যাম্পাসে শেষ কর্মদিবস, তারপর ছুটি হয়ে যাবে। এর আগে আমরা অন্তত চেয়েছিলাম অপরাধীর পরিচয়টা জানতে। কিন্তু তারও আমরা কোনো আপডেট তথ্য পাইনি। আমরা চাই, এই জাহাঙ্গীরনগর যে নারীদের জন্য সবচেয়ে সুরক্ষিত একটা ক্যাম্পাস, সেই সুরক্ষা বজায় থাকুক। আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাস ফিরে পেতে চাই এবং এই নিরাপদ ক্যাম্পাসকে যারা নিরাপদ রাখতে পারেনি, যাদের গাফিলতি আছে, তাদের যেন মুখোশ উন্মোচন করা হয় এবং তাদের যেন বিচারের আওতায় আনা হয়।’



