এলিট ফোর্স র্যাপিট এ্যাকশন ব্যাটেলিয়নকে (র্যাব) শক্তিশালী করতে সরকার ১৬৩টি গাড়ি কেনার অনুমোদন দিয়েছে। এসব গাড়ি কিনতে খরচ হবে ১২২ কোটি টাকা। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছিল, এখন তা বাস্তবায়ন হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় গাড়ি কেনা
‘র্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই গাড়ি কেনার খরচ বহন করা হবে। প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৮ সালে। তখন প্রকল্প মেয়াদে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। পরে ২০৭ কোটি টাকা কাটছাঁট করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় ৮২৭ কোটি টাকা।
লক্ষ্যমাত্রা ও অগ্রগতি
প্রকল্পটির আওতায় মোট ১ হাজার ৫৭০টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এবং ১৩১টি সরঞ্জাম কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতিমধ্যে ৮০৯টি যানবাহন ও ১০১টি সরঞ্জাম কেনাও হয়েছে। সর্বশেষ গত ৭ মে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। প্রস্তাব উপস্থাপন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিতর্ক ও বিরোধিতা
গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তারা এই সুপারিশ করে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। এছাড়া নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মহলও র্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এই বাহিনীর বিলুপ্তি দাবি করেছিল। জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের করা প্রতিবেদনেও র্যাবকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে বলা হয়েছিল, তারা মানবাধিকার লংঘনের সঙ্গে জড়িত।
কমিশনের বক্তব্য
অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা র্যাবকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিলাম যে যুক্তিতে সেটা হলো, এখানে বিভিন্ন বাহিনী থেকে আসা সদস্য আছে। এখানে সেনাবাহিনীর সদস্য যেমন আছেন, পুলিশের সদস্যও আছেন। তাদের প্রশিক্ষণ কিন্তু এক না। আবার তারা কম্বাইনলি অভ্যন্তরীণ অপরাধ দমনে কাজ করছে। কম্বাইন ফোর্স হলে তাদের মধ্যে আইন ভাঙার প্রবণতা বেশি থাকে। আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়েছি। সেখানে দেখা গেছে, কম্বাইন ফোর্স বিশ্বে কোথাও সফল হয়নি। যদি কোনো বিশেষ ফোর্স তৈরি করতে হয় তাহলে একটি বাহিনীর ভেতর থেকে নিয়ে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে করা যেতে পারে। সেটা পুলিশও হতে পারে, সেনাবাহিনীও হতে পারে।’
র্যাবের অবস্থান
র্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ ইত্তেফাককে বলেন, ‘র্যাব থাকবে কি থাকবে না, সেটার সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। আমরা শুধু জনগণের জান-মাল রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছি। র্যাবের কোনো সদস্য দ্বারা যেন কোনো ধরনের আইনের ব্যত্যয় না হয় সেদিকে আমরা কঠোরভাবে খেয়াল রাখছি। র্যাব তাদের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি কাজের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। ফলে সরকার এই প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বুঝতে পেরেছে বলেই র্যাবকে শক্তিশালী করছে। আমরা অভ্যন্তরীণভাবেও শৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিশ্চিত করছি।’



