গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় গজারি বনের পাশ থেকে আসিফ হোসেন (২১) নামে এক অটোচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর অটোরিকশাটি পাশের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির বাইরে পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ডোয়াইবাড়ি (উত্তরপাড়া) বগার ভিটা এলাকার গজারি বনের ভেতর নিচু জমি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিচয় ও পরিবার
নিহত আসিফ হোসেন (২১) ওই এলাকার হুমায়ুন আহমেদ জাকিরের ছেলে। দেড় মাস ধরে তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। নিহতের স্ত্রী মিরজানা আক্তার মিম জানান, তাদের সংসারে ৭ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান আছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে স্ত্রীর সঙ্গে খাবার শেষে বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন আসিফ। বের হওয়ার সময় তিনি স্ত্রীকে বলেন, শিশুর জন্য দুধের কৌটা, স্ত্রী ও মায়ের জন্য কাপড় নিয়ে আসবেন। তিনি সাধারণত রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাড়ি ফিরতেন।
নিখোঁজের পর খোঁজাখুঁজি
তিনি আরও জানান, ওই দিন রাত ১০টার পরও তিনি না ফেরায় স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত ১টার দিকে মোবাইলে কল করা হলে ফোন খোলা থাকলেও রিসিভ হয়নি। পরে রাত ২টার দিকে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে স্বজনেরা খোঁজ করতে থাকেন। পরে বনের পাশে অটোরিকশা দেখতে পান।
সন্দেহজনক ফোন কল
নিহতের স্ত্রী মিরজানা আক্তার মিম আরও জানান, এক মাস ধরে একটি মেয়ে তাঁর মোবাইলে ফোন দিয়ে বলতো, ইজ্জতপুর থেকে রোগী নিয়ে শ্রীপুর যেতে হবে। পরে তিনি ওই নম্বরে ফোন রিসিভ করে মেয়েটিকে বলেন, আর ফোন না দিতে, তাঁর স্বামী রোগী নিয়ে যাবে না। এরপর প্রায় ৫ থেকে ৬ দিন ধরে ওই নম্বর থেকে আর ফোন আসেনি।
পারিবারিক প্রেক্ষাপট
নিহতের মামা হেলাল উদ্দিন জানান, প্রায় তিন বছর আগে নিহত আসিফ হোসেনের বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে গাজীপুরে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে আসিফ তার মা আছমা আক্তারের সঙ্গে বগার ভিটা এলাকার বনের জমিতে বসবাস করছিলেন। তার মা স্থানীয় চায়না পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। এলাকার কারও সঙ্গে তার বিরোধ ছিল না বলেও দাবি করেন হেলাল উদ্দিন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান বলেন, মরদেহের ডান হাতের বাহুর উপরে কামড়ের দাগ, পাশে ছোট্ট একটি ছুরি, একটি হলুদ ওড়না, মাথার কাঁকড়া (ক্লিপ), পুরুষের দুই জোড়া স্যান্ডেল, একটি ক্যাপ ও একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। মরদেহের ১০ গজ দূর থেকে নারীর একটি জোড়া স্যান্ডেলও পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, ‘সার্বিক বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আলামত দেখে বোঝা যাচ্ছে ঘটনাটি নারীঘটিত ঘটনার জেরে হত্যাকাণ্ড হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিহতের গলায় উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের আঘাত পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটা পেশাদার কোনো কিলারের কাজ না। কারণ, তার অটো এবং অটোর চাবিও রেখে গেছে। অটো ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যা করলে দুর্বৃত্তরা সেটি নিয়ে যেত।’
মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’



