মেগা প্রকল্পে লুট হয়েছে, পদ্মা সেতুর ব্যয় কমানো যেত: সেতুমন্ত্রী
মেগা প্রকল্পে লুট, পদ্মা সেতুর ব্যয় কমানো যেত: সেতুমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, মেগা প্রকল্পের নামে লুট হয়েছে। পদ্মা সেতুর ব্যয় কমানো যেত, আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে করা যেত, সেটা জনগণের দাবি ছিল, কিন্তু করা হয়নি। দেশ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। ২০ লাখ কোটি টাকার ওপরে বৈদেশিক ঋণ রেখে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হচ্ছে।

সুধী সমাবেশে বক্তব্য

আজ সোমবার দুপুরে পদ্মা সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পদ্মা সেতু জাদুঘরের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে সুধী সমাবেশে সেতুমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘১৬টি মেগা প্রকল্পের অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে, কিন্তু কাজ হয়নি। ঠিকাদার পালিয়ে গেছে। ওই কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে বিদেশি দাতা সংস্থা, যারা আমাদের বন্ধু হিসেবে বড় বড় প্রকল্পে সহযোগিতা করত, ১৮ বছরের দুর্নীতি ও অ-আনুষ্ঠানিকতার প্রক্রিয়ার কারণে তারা এখন অনীহা প্রকাশ করছে।’

পদ্মা সেতুর ইতিহাস

শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০০২-০৫ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণের ফিজিবিলিটি (সম্ভাব্যতা যাচাই) পরীক্ষা করা হয়েছিল খালেদা জিয়া সরকারের আমলে। সেই ফিজিবিলিটি অনুসারে এই মাওয়াতেই অ্যালাইনমেন্ট নির্দিষ্ট করেছিলেন খালেদা জিয়া সরকার। যদিও দুর্নীতি ও বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় করে পরবর্তী সরকার তা বাস্তবায়ন করেছে। তবে পদ্মা সেতুটা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনি ব্যবস্থার দাবি

যাঁরা পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থের অপচয় করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে এ সরকার কাজ করবে না। এই সরকার টেকসই উন্নয়ন চায়, জবাবদিহিমূলক শাসন চায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুষ্ঠানে উপস্থিতি

সেতু বিভাগের নির্বাহী পরিচালক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, শরীয়তপুর–১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক সরদার এ কে এম নাসিরউদ্দিন, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ শরীফ-উজ-জামান প্রমুখ।

পদ্মা সেতু জাদুঘর

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার পাশে পদ্মা সেতু জাদুঘর নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা একটি ভবনে থাকবে জাদুঘরটি। দেশের অন্যতম মেগা অবকাঠামো পদ্মা সেতুর ইতিহাস, নির্মাণসংশ্লিষ্ট তথ্য, গবেষণা উপকরণ ও সংগৃহীত বিভিন্ন প্রাকৃতিক–ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের লক্ষ্যে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ জাদুঘর ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। জাদুঘরটি দেশের গবেষক, শিক্ষার্থী, পর্যটক ও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য একটি আধুনিক জ্ঞান ও শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

সংগৃহীত নমুনা

বর্তমানে পদ্মা সেতু জাদুঘরের সংগৃহীত নমুনাসমূহ মাওয়া প্রান্তের সার্ভিস এরিয়া-১–এ অস্থায়ীভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৩৬ প্রজাতির ২ হাজার ৪৩১টি নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাণী নমুনা ২ হাজার ১৮১টি এবং অন্যান্য নমুনা ২৫০টি। সংগৃহীত নমুনার মধ্যে স্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপ, উভচর, মাছ, শামুক-ঝিনুক, পোকামাকড়, বিভিন্ন নৌযান উপকরণ, মাছ ধরার সরঞ্জাম ও নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন নমুনা সরঞ্জাম ও পদ্মা সেতুর মডেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।