ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব মসজিদ ও মন্দির ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিতসহ সংশ্লিষ্টদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
সোমবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে মন্ত্রণালয়ের সেশন শেষে তিনি এসব কথা জানান। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তি অর্থাৎ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, অন্যান্য ধর্মের পুরোহিত, সেবায়েত, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষের জন্য ভাতা চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে ধর্মসচিব বলেন, দেশে ৩ লাখের বেশি মসজিদ রয়েছে। এর মধ্যে আগামী অর্থবছরের জুলাই থেকে ২০ শতাংশ মসজিদকে ভাতার আওতায় আনা হবে। এ জন্য ইতোমধ্যে ১১০০ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। পর্যায়ক্রমে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেই এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
তবে এই সুবিধাকে কেন্দ্র করে যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে নতুন মসজিদ বা মন্দির গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে আইনগতভাবে বাধা দেওয়ার সুযোগ না থাকায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন সচিব। তিনি বলেন, নাম পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রস্তাব আসছে। তবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়, তাই এ বিষয়ে জনসচেতনতা জরুরি।
ধর্মসচিব আরও বলেন, দেশে ৭৭ হাজারের বেশি মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম রয়েছে, যা ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এ কার্যক্রমের সময়সূচি ও কার্যকারিতা নিয়ে জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে কিছু পর্যবেক্ষণ এসেছে, বিশেষ করে নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব বাড়ানোর বিষয়ে। এ ছাড়া ওয়াক্ফ সম্পত্তি রক্ষা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে বিপুল পরিমাণ ওয়াকফ সম্পত্তি অব্যবস্থাপনায় রয়েছে। এগুলো উদ্ধারে জেলা প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
ধর্মসচিব জানান, ওয়াকফসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্পত্তির একটি ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজ শেষ হলে সম্পত্তি চিহ্নিত করে উদ্ধারের কার্যক্রম জোরদার করা হবে। তিনি আরও বলেন, এসব সম্পত্তি সংক্রান্ত অনেক বিষয় দেওয়ানি আদালতে জটিলতায় পড়ে যায়। তাই প্রয়োজন হলে আইন হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হবে।



