ছয় বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়ন: চুয়াডাঙ্গায় বৃদ্ধ গ্রেপ্তার, মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে
ছয় বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়ন: চুয়াডাঙ্গায় বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

ছয় বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়ন: চুয়াডাঙ্গায় বৃদ্ধ গ্রেপ্তার, মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৬৩ বছর বয়সী খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটির মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০–এর ১০ ধারায় মামলা করেছেন। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ঘটনার বিবরণ ও পুলিশি পদক্ষেপ

যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি ঘটেছে ১১ এপ্রিল। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন এবং গ্রেপ্তারকৃত খোরশেদ আলমকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। শিশুটিকে সদর হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে এবং তার জবানবন্দি নেওয়া হবে।

মায়ের বর্ণনায় ভয়াবহ ঘটনা

শিশুটির মা জানান, ১১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ছয়টায় মেয়েকে বাড়িতে রেখে তিনি কর্মস্থলে যান। ওই দিন সকাল আটটার দিকে বাড়ির বাইরে খেলাধুলার সময় খোরশেদ আলম শিশুটিকে প্রতিবেশী রেখা বেগমের নির্মাণাধীন বাড়ির শৌচাগারের ভেতরে নিয়ে যান এবং যৌন নিপীড়ন করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তাকে ছেড়ে দেন খোরশেদ। এরপর বাইরে এসে ঘটনাটি প্রতিবেশীদের জানিয়ে দেয় শিশুটি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খবর পেয়ে শিশুটির মা অফিস থেকে বাড়িতে আসেন এবং মেয়ের কাছে বিস্তারিত শোনেন। এরপর নিকটাত্মীয়সহ কয়েকজন প্রতিবেশীকে জানান। কিন্তু অভিযুক্ত খোরশেদ আলমের পরিবারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ও মানসম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তা পুলিশকে জানানো হয়নি। সেই থেকে খোরশেদ আলম আত্মগোপনে ছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও উত্তেজনা

এর মধ্যে খোরশেদ আলমকে গতকাল রাতে এলাকায় দেখতে পেয়ে শিশুটির ভাই ১১ এপ্রিলের ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। পরে দুজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটি ও উত্তেজনা দেখা দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং অভিযুক্ত খোরশেদ আলমকে ধরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ খোরশেদকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে আসে।

এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলাটির তদন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং শিশুটির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।