টাঙ্গাইলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণ: সালিশে জুতা পেটা ও জরিমানায় ধামাচাপার অভিযোগ
টাঙ্গাইলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণ, সালিশে ধামাচাপা

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণ: সালিশে জুতা পেটা ও জরিমানায় ধামাচাপার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ঘটনার পর গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে অভিযুক্তকে জুতা পেটা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খায়রুল ইসলাম ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী, যিনি ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর থেকে মায়ের সঙ্গে বসবাস করছেন। তার মা ও ভাইও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। গত বৃহস্পতিবার বিকালে বাড়ির পাশের বোরো ধানখেতে কাজ করতে গেলে একই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী একাব্বর আলী (৫৩) তাকে ফুসলিয়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে তার কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।

ঘটনার পরপরই এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ভুক্তভোগীর পরিবারকে থানা বা হাসপাতালে যেতে বাধা দেন। ভুক্তভোগীর চাচী আনোয়ারা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সালিশ বৈঠক ও ধামাচাপার চেষ্টা

পরে ওই রাতেই অভিযুক্তের ছোট ভাই শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে ধর্ষক ও ভুক্তভোগীকে পাশাপাশি বসিয়ে উপস্থিত লোকজনের সামনে ঘটনাটি বর্ণনা করতে চাপ দেওয়া হয়। লজ্জা ও ভয়ের কারণে ভুক্তভোগী কথা বলতে সংকোচবোধ করলে তাকে ধমক দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আপসের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।

শেষ পর্যন্ত সালিশে অভিযুক্তকে জুতাপেটা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীর পরিবারকে আইনের আশ্রয় না নিতে বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও পুলিশি তদন্ত

পরে বিষয়টি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের নজরে এলে শুক্রবার তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীর স্বজনদের সহায়তায় তাকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেলে তাকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

গোপালপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছেন। তবে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের ঘটনায় কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই ঘটনা সমাজে নারী নির্যাতন ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সহিংসতার উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।