ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ভূমি অফিসে সাংবাদিকদের লাঞ্ছনা ও অবরুদ্ধ করার ঘটনা
নবীনগর ভূমি অফিসে সাংবাদিকদের লাঞ্ছনা ও অবরুদ্ধকরণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ভূমি অফিসে সাংবাদিকদের লাঞ্ছনা ও অবরুদ্ধ করার ঘটনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় একটি ভূমি অফিসে অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনজন গণমাধ্যম কর্মীকে লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে নবীনগর সদর ভূমি অফিসে এই ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে প্রায় এক ঘণ্টা পর ওই তিন সাংবাদিক অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তি পান।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের পরিচয়

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন বাংলা টিভির প্রতিনিধি পিয়াল হাসান রিয়াজ, গ্রীণ টিভির প্রতিনিধি মমিনুল হক রুবেল এবং বাংলাদেশের আলো পত্রিকার প্রতিনিধি মো. অলিউল্লাহ। তারা জানান, সম্প্রতি নবীনগর সদর ভূমি অফিসে জমির খারিজ করতে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই তিন সাংবাদিক ভূমি অফিসে যান।

ঘটনার বিবরণ

ভূমি অফিসে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে ক্ষুব্ধ হন ভূমি অফিসের সহকারী তসিলদার (নায়েব) মোঃ সামসুদ্দোহা। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। পরে সহকারী তসিলদার মোঃ সামসুদ্দোহা ও অফিস সহায়ক হাবিবুর রহমান ওই তিন সাংবাদিককে অফিসের ভেতর তালাবদ্ধ রেখে বেরিয়ে যান। এতে ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা অন্যান্য সেবা গ্রহীতারাও ভেতরে আটকা পড়েন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ

খবর পেয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসানের হস্তক্ষেপে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হন ওই ৩ সাংবাদিক। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, সাংবাদিকদের তালাবদ্ধ করে রাখা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও সম্ভাব্য ব্যবস্থা

তদন্তে ওই সহকারী তসিলদারের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও। এই ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভূমি অফিসের অনিয়ম ও সাংবাদিকদের প্রতি এই আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন।

এই ঘটনা সাংবাদিকতা পেশার ঝুঁকি এবং সরকারি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।