আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নতুন নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী তাহমিনা রহমান। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব নেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আসকের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিন দশকের মানবাধিকার সংগ্রাম
মানবাধিকার, নারী অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার ও ডিজিটাল অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করে আসছেন তাহমিনা রহমান। তিনি এর আগে আসকের নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক (২০১৯–২০) এবং বিভিন্ন সময়ে নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংগঠন আর্টিকেল নাইটিনের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার জোরদার, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কারের পক্ষে কাজ এবং অনলাইনে মতপ্রকাশের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার মতো নানা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পুরস্কার
মানবাধিকার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যের ‘এমবিই’ (মেম্বার অব দ্য মোস্ট এক্সিলেন্ট অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার) সম্মানে ভূষিত হন। এ ছাড়া ২০১৬ সালে মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য তিনি মর্যাদাপূর্ণ ফ্রাঙ্কো-জার্মান প্রাইজ অর্জন করেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক (সম্মান) এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথ থেকে গবেষণা ফেলোশিপ অর্জন করেন।
আসকের প্রত্যাশা
এক বিবৃতিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে যে, তাহমিনা রহমানের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা এবং নেতৃত্ব সংস্থাটির মানবাধিকার সুরক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালীকরণে নতুন গতি সঞ্চার করবে। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে যে, তার নেতৃত্বে মানবাধিকার আন্দোলন আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে।



