চট্টগ্রামে কলেজছাত্র আশফাককে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ, সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা
চট্টগ্রামে কলেজছাত্র আশফাক হত্যা: সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামে কলেজছাত্র আশফাককে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ

চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকায় এক নির্মাণাধীন ভবনে কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদকে (১৭) মারধরের পর আটতলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে হত্যার মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে মঙ্গলবার চকবাজার থানায় মামলা করেছেন, যাতে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে আশফাককে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মুঠোফোনে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকার মোড়ে ডেকে নেয়। সেখানে কথা বলার সময় আইমন, অনিক, রানা মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ একদল তরুণ ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আশফাককে জোর করে নিয়ে যান।

একপর্যায়ে ওই তরুণদের হাত থেকে বাঁচতে আশফাক কৌশলে কাছের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দেয় এবং দৌড়ে আটতলায় উঠে যায়; কিন্তু হামলাকারীরা গেটে ধাক্কা দিলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন। পরে হামলাকারীরা ওপরতলায় উঠে আশফাককে মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার

গুরুতর আহত অবস্থায় আশফাককে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হককে গ্রেপ্তার করেছে এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ জানিয়েছেন, হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিহতের পরিচয় ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া

নিহত আশফাক কবির নগরের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। সে বাকলিয়া ডিসি রোড কবরস্থানের পাশের একটি বাসায় ভাড়া থাকত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহত আশফাকের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। কেন তাকে হত্যা করা হলো, সেটি দ্রুত তদন্ত করে বের করতে হবে। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ও নিরাপত্তা প্রশ্ন

এই ঘটনা চট্টগ্রাম নগরীতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। আশফাকের সহপাঠী ও শিক্ষকরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং এই ধরনের সহিংসতা রোধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।