চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় চুরির সন্দেহে যুবককে বেঁধে মারধর, চারজন গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় চুরির অভিযোগে এক যুবককে বেঁধে দলবদ্ধভাবে মারধরের ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত সোমবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে এবং মঙ্গলবার রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মালিরহাট বেলালপাড়া জামে মসজিদের সামনে ওই যুবককে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাঁকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়েছে এবং প্লায়ার্স দিয়ে তাঁর নখও উপড়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যুবকটি একজন মুয়াজ্জিন ছিলেন এবং অন্য মসজিদে চাকরির সন্ধানে পোমরা এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে মসজিদের মাইক ও ব্যাটারি চুরির অভিযোগে তাঁকে এই মারধরের শিকার হতে হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়া
মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে দেখা যায়, যুবককে একটি ভবনের দরজার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং ৫০ থেকে ৬০ জন লোক তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি কাঠের গুঁড়ি ও লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করছেন। ভিডিওতে শোনা যায়, উপস্থিত কয়েকজন যুবকের উদ্দেশে বলেন, 'তুই ব্যাটারি চুরি করেছিস?' জবাবে যুবকটি বলেন, 'আমি চুরি করিনি।' একপর্যায়ে তাঁকে ভয় দেখিয়ে নখ তুলে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বোন বাদী হয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. জহির আহম্মদ (৪৮), মো. ওসমান (৩৩), মো. জসিম (৩৭) এবং মো. আব্বাস উদ্দিন (৪৩)। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগে এই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করেছেন এবং বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পরিণতি
ভিডিও শেষে একজনকে চট্টগ্রামের ভাষায় বলতে দেখা যায়, 'মসজিদ থেকে ব্যাটারি ও মেশিন চুরি করতে এসে ধরা খেয়েছে চোর। এ ভিডিও শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন। আর চোরকে আপনার এলাকায় দেখলে পিটুনি দিন।' এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং গ্রেপ্তারগুলো সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।



